আকাশ ছোঁয়া উচ্চতায় ত্বকের দফারফা? বিমানযাত্রায় শিট মাস্ক ব্যবহারের আসল সত্যিটা ফাঁস করলেন বিশেষজ্ঞ!

দক্ষিণী তারকা তৃষা কৃষ্ণণ (Trisha Krishnan) সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিমানের ভেতর থেকে একটি রিল শেয়ার করতেই তা রাতারাতি নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মাঝ আকাশে বিমানের আরামদায়ক চেয়ারে হেলান দিয়ে নিজের মুখে একটি হাইড্রেটিং শিট মাস্ক (Hydrating Sheet Mask) লাগিয়ে বসে আছেন তিনি। শুধু তৃষাই একা নন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদেরও মাঝেমধ্যেই বিমানে উড়লেই এই ধরনের শিট মাস্ক পরে ছবি শেয়ার করতে দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এটি কি স্রেফ কোনো নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট? নাকি হাজার হাজার ফুট ওপরে মাঝআকাশে সত্যিই এই ধরনের মাস্ক ত্বকের কোনো বিশেষ উপকারে লাগে?

এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসল সত্যিটা খোলসা করেছেন ‘আকিয়া এস্টেটিকস’ (Akiya Aesthetics)-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. রূপিকা সিং (Dr Rupika Singh)। জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিমানের কেবিনের ভেতরের শুষ্ক পরিবেশে হাইড্রেটিং বা জেল-ভিত্তিক শিট মাস্ক ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকরী।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “ফ্লাইটের সময় কেবিনের কম আর্দ্রতাজনিত ডিহাইড্রেশনের বিরুদ্ধে দারুণভাবে লড়াই করে এই শিট মাস্কগুলি। এটি ত্বকের খসখসে ভাব কমায় এবং একটি দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বিমানযাত্রা শেষেও ত্বককে নরম, সতেজ ও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে।”

ফ্লাইটে কোন ধরনের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত নয়?
তবে মুখে যেকোনো মাস্ক চাপিয়ে নিলেই কিন্তু আশানুরূপ ফল মিলবে না। ড. সিং বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিমানযাত্রার সময় ভুলেও এক্সফোলিয়েটিং কেমিক্যাল, চারকোল, ক্লে-মাস্ক, স্ট্রং অ্যাক্টিভস বা পিল-অফ মাস্ক ব্যবহার করা উচিত নয়। এই উপাদানগুলি ব্যবহার করলে ত্বকে মারাত্মক জ্বালা বা ইনফ্লামেশন হতে পারে। তার পরিবর্তে হাইয়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা বা প্যানথেনল যুক্ত মৃদু মাস্ক বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

বিমানে যাতায়াতের সময় সঠিক স্কিন কেয়ারের কিছু সহজ নিয়ম:

পরিচ্ছন্নতা সবার আগে: বিমানে মাস্ক মুখে লাগানোর আগে হাত ভালো করে স্যানিটাইজ বা পরিষ্কার করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় হাতে থাকা অদৃশ্য জীবাণু মুখে লেগে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সময়ের সঠিক খেয়াল রাখুন: প্যাকের গায়ে নির্দেশিকায় যদি ২০ মিনিট লেখা থাকে, তবে ঠিক ততটুকু সময়ই তা মুখে রাখুন। বেশিক্ষণ শুকিয়ে যাওয়ার জন্য মাস্কটি ফেলে রাখা একদমই উচিত নয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ: মাস্ক তুলে ফেলার পর মুখে লেগে থাকা অবশিষ্ট সিরাম আলতো হাতে মাসাজ করে নিন। এরপর কয়েক ফোঁটা ফেসিয়াল সিরাম, একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং অন্তত এসপিএফ ৩০ (SPF 30) যুক্ত সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই ত্বকে কোনো গুরুতর সমস্যা রয়েছে কিংবা যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাঁদের শিট মাস্কের ঝামেলায় না গিয়ে সরাসরি কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। তাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি ভালো সেরামাইড-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। পাশাপাশি, বিমানে ওঠার আগে হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা, অ্যালকোহল বা মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং বারবার মুখে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *