কনস্টেবল নিয়োগে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ব্রাত্য রাখা হলো কেন? রাজ্যের কাছে বিস্ফোরক জবাব তলব হাইকোর্টের!

আইনিভাবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও, বাস্তবের মাটিতে যে এখনও একাধিক ফারাক ও বৈষম্য রয়ে গেছে, তার প্রমাণ মিলল আবারও। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগের আবেদনপত্রকে কেন্দ্র করে এক বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগের এই ফর্মটিতে শুধুমাত্র ‘পুরুষ’ ও ‘মহিলা’—এই দুটি বিকল্পই রাখা হয়েছে, যার ফলে তৃতীয় লিঙ্গের (Transgender) কোনো প্রার্থী নিজের সঠিক পরিচয় দিয়ে আবেদনই করতে পারছেন না। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে এবার রাজ্য সরকারের কাছে জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
মামলার মূল অভিযোগ কী?
হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে:
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (কনস্টেবল এবং লেডি কনস্টেবল নিয়োগ) বিধিমালায় শুধুমাত্র পুরুষ ও মহিলাদের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য কোনো পৃথক বিভাগ বা সুযোগ রাখা হয়নি।
অনলাইন আবেদনপত্রে লিঙ্গ বা জেন্ডার বেছে নেওয়ার ঘরে শুধুমাত্র ‘পুরুষ’ ও ‘মহিলা’ অপশন থাকায় তৃতীয় লিঙ্গের যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এর ফলে তাঁরা সরকারি চাকরির মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মামলাকারীদের আরও জোরালো দাবি, এই ধরনের একপেশে নিয়ম ২০১৯ সালের ‘তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সুরক্ষা আইন’ (Transgender Persons Protection of Rights Act, 2019)-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পাশাপাশি, সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এই নিয়ম তারও সরাসরি লঙ্ঘন।
হাইকোর্টের নির্দেশ কী?
উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর এই অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এখনও পর্যন্ত পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা বা অপশন রাখা হলো না, সেই বিষয়ে রাজ্যের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেছে আদালত।
আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এখন আদালতের নজর সেই রিপোর্টের দিকেই।