কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? কম খরচে কোথায় থাকবেন আর খাবেন? জানুন এই দারুণ উপায়!

বীরভূমের তারাপীঠ কেবল একটি মন্দিরই নয়, এটি সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের পবিত্র ভূমি। মা তারার এই সিদ্ধপীঠে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত মনের বাসনা নিয়ে হাজির হন। তবে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভাদ্র মাসের পবিত্র কৌশিকী অমাবস্যায় ভক্তদের সমাগম থাকে চোখে পড়ার মতো। লক্ষাধিক মানুষের এই মহাভিড়ে তারাপীঠে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় থাকার জায়গা এবং অতিরিক্ত খরচ। আপনিও যদি এই বিশেষ তিথিতে তারাপীঠ যাওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে কম খরচে থাকা ও খাওয়ার দারুণ কিছু উপায় জেনে রাখুন।
কবে পড়েছে কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬?
পৌরাণিক মতে, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে এই বিশেষ অমাবস্যা তিথিতেই মহাশ্মশানে শ্বেত শিমূল গাছের তলায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। মা তারা হলেন দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় রূপ কৌশিকীরই অন্য অবতার, যিনি শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধ করেছিলেন।
তিথির সময়: চলতি বছর (২০২৬) ২৩শে ভাদ্র (ইংরেজি ১০ সেপ্টেম্বর) কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:১০ মিনিটে তিথি শুরু হয়ে চলবে পরের দিন অর্থাৎ ২৪শে ভাদ্র সকাল ৮:৫০ মিনিট পর্যন্ত।
এই সময় মন্দির চত্বরে ব্যাপক ভিড় থাকায় আগে থেকে ছক কষে না গেলে হোটেল পাওয়া বা চড়া দাম নিয়ে বিপাকে পড়তে হতে পারে।
তারাপীঠে কম খরচে কোথায় থাকবেন?
মন্দিরের ঠিক পাশেই বা প্রধান সড়কের ওপর হোটেল বুক করতে গেলে এই সময়ে আকাশছোঁয়া দাম দিতে হয়। তবে একটু বুদ্ধি করে এগোলে মিলবে স্বস্তি:
ভারত সেবাশ্রম সংঘের পথ: তারাপীঠ ব্রিজে নেমে যে কাউকে মুন্ডমালিনি তলার রাস্তা বা ভারত সেবাশ্রমের রাস্তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। সেখানে অত্যন্ত কম খরচে রাত্রিযাপনের দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। ওই রাস্তার একটু ভেতরে ঢুকলেই ছোট-বড় বেশ কয়েকটি লজ বা হোটেল পাবেন, যেগুলির ভাড়া মূল সড়কের তুলনায় অনেকটাই কম।
তিনমাথার মোড়: আরেকটি সাশ্রয়ী বিকল্প হলো মন্দির থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত তিনমাথার রাস্তা। সেখানেও বাজেটের মধ্যে রুম পাওয়া সম্ভব।
রামপুরহাট স্টেশন এলাকা: যাঁদের বাজেট আরও সীমিত, তাঁরা রামপুরহাট স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড এলাকার লজগুলিতে থাকতে পারেন। সেখানে অল্প খরচে রাত কাটিয়ে সকালে বাসে বা অটোয় সো্ধা তারাপীঠ পৌঁছে পুজো সেরে নেওয়া যায়। এতে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়ার চাপ থেকে মুক্তি মিলবে।
পুজো ও দর্শনের সময় বাঁচানোর কৌশল
কৌশিকী অমাবস্যার দিন মন্দিরে ভক্তদের লম্বা লাইন সামলানোই আসল চ্যালেঞ্জ। তাই ভিড় এড়াতে খুব ভোরে পৌঁছে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। দ্বারকা নদীর পবিত্র জল মাথায় নিয়ে ফুল, ফল ও মালা দিয়ে মায়ের পুজো দেওয়ার প্রচলিত রীতি রয়েছে। তিথির শুরুতে বা সকালের প্রথমভাগে মন্দিরে পৌঁছাতে পারলে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় বাঁচানো সম্ভব।
এছাড়া খাওয়ার জন্য মন্দির চত্বর ও আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য ভোজনালয় ও সাধারণ হোটেল রয়েছে। পকেটের কথা মাথায় রেখে সেখানে সাধারণ ভাত-ডাল থেকে শুরু করে সাধের প্রসাদসুলভ খাবারও পেয়ে যাবেন খুব কম খরচে। আগে থেকেই থাকার বন্দোবস্ত পাকা করে রাখলে কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র দিনে মন দিয়ে মা তারার আরাধনা করতে পারবেন।