বারুইপুরে ধৃতের এনকাউন্টার কাণ্ডে বড় মোড়! রাজ্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

বারুইপুরে চাঞ্চল্যকর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার বা পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ঠিক কী পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করা হলো, সেই বিষয়ে জেলা পুলিশের কাছে বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে ঘটনার সমস্ত বিবরণ দিয়ে হলফনামা আকারে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী শিলাদিত্য রক্ষিত। এদিন সেই মামলারই শুনানি ছিল।

আদালতে কী সওয়াল হলো?
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতে সওয়াল করে বলেন, “পুলিশের উচিত ছিল উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। পুলিশের নিরাপত্তা যদি সঠিক থাকত, তাহলে পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটত না। পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণভাবে মনগড়া। এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে দাবি করা হয় যে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে এবং সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত খতিয়ান পেতে পুলিশ প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট রিপোর্টের প্রয়োজন। সেইমতো আগামী ১৭ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির আগে বারুইপুর পুলিশ জেলাকে সমস্ত ঘটনার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *