মোদী কি ইসলামাবাদ যাবেন? ২০২৭ সালের SCO সামিট ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

বছর ঘুরলেই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও (SCO) সামিট। ২০২৭ সালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান।
কী জানাল পাক বিদেশমন্ত্রক?
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের এসসিও সামিটে সংগঠনের সমস্ত সদস্য দেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য দেশের রাষ্ট্রনেতারাই এই সম্মেলনে অংশ নেন। সেই হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকছে ভারত।
অন্যদিকে, সম্প্রতি মানিলায় আসিয়ান (ASEAN) বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে পাক বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে ভারতের পক্ষ থেকে এই ধরনের কোনো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আবেদন তাদের কাছে আসেনি।
কী এই এসসিও (SCO)?
ইউরেশিয়া অঞ্চলে শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ও আর্থিক সমৃদ্ধি বজায় রাখার প্রধান লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ সালের ১৫ জুন এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীটি গঠিত হয়েছিল। বর্তমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চের সদস্য দেশগুলি হল:
-
ভারত
-
পাকিস্তান
-
চিন
-
রাশিয়া
-
কাজাখস্তান
-
কিরঘিস্তান
-
তাজিকিস্তান
-
ইরান
-
বেলারুস
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমপর্যায় অনুযায়ী এসসিও-র সদস্য দেশগুলিতে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই সামিটের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেই নিয়মেই এবারে আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নাম রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েনের মাঝেও কূটনৈতিক জল্পনা
গত কয়েক বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সীমান্তে অব্যাহত সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ ও কূটনীতি বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত। এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ করা উচিত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের মতে, এসসিও একটি সম্পূর্ণ বহুপাক্ষিক (Multilateral) মঞ্চ। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠনের বৈঠকে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা হয় না, বরং বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং বাণিজ্য সহযোগিতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসসিও-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শক্তি হিসেবে ভারত বরাবরই এই মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে ২০২৭ সালের এই শীর্ষ বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে কে বা কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফরে যান কি না, সেটাই এখন দেখার সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।