‘শাহের নির্দেশেই ছাত্রদের ওপর বলপ্রয়োগ!’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে সুর চড়ালেন অভিজিৎ দিপকে

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের জেরে দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর এবার আরও একধাপ এগিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ মিছিলে ছাত্রদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন শাহ নিজেই।

দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে একটানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালায় সিজেপি। সেই আন্দোলনে প্রাথমিক সাফল্য পাওয়ার পর নিজের বাড়ি ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিপকে। সেখানেই তিনি এই হুঙ্কার ছাড়েন এবং দেশের সাধারণ মানুষকেও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনীতির গণ্ডী পেরিয়ে একজোট হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিচার ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তোপ

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দেশের বিচারব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন দিপকে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও আজ প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ইডি ও সিবিআইয়ের মতো সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে শিবসেনা ও এনসিপির মতো দল ভাঙানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। দেশের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলি গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তোপ দাগেন সিজেপি প্রধান।

প্রহ্লাদ যোশি ও বাবা রামদেবকে আক্রমণ

নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে কটাক্ষ করে তাঁকে ‘অদ্ভুত ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেন অভিজিৎ। তাঁর প্রশ্ন, দেশের শিক্ষামন্ত্রী যদি অপরাধীদের প্রশ্রয় বা প্রশংসা করেন, তবে তা সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দেয়?

পাশাপাশি, বাবা রামদেবের ‘জেন জি’ (Gen Z) সম্পর্কিত মন্তব্য নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি.আর. আম্বেদকরের ছবি সামনে রেখে সংবিধান মেনেই তাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছেন। রামদেবকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাবা রামদেবের উচিত নিজের পতঞ্জলি সংস্থার দিকে নজর দেওয়া।”

‘উনি কিসের চাণক্য?’ অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন দিপকে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি ফান্ডিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলছেন ককরোচ জনতা পার্টি বিদেশ থেকে অর্থ পাচ্ছে। যদি সেটাই সত্যি হয়, তবে তা অমিত শাহের ব্যর্থতা। সিজেপি যদি বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়, তবে উনি আর কিসের চাণক্য?” ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের উপর চড়াও হওয়ার নেপথ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত রয়েছে বলে ফের অভিযোগ তোলেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *