সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উদ্বিগ্ন ‘ককরোচরা’, ফের বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) প্রত্যাহারের বিষয়ে পূর্বে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সুযোগ নিয়ে কেন্দ্র এখন তা থেকে পিছু হটছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও সিজেপি-র আপত্তি

গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী এবং অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই এমন সমস্ত ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সিজেপি-র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ক্ষেত্রে পুলিশ আপাতত কোনো জবরদস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না।

তবে আদালতের এই রায়ের সেই অংশ নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সিজেপি, যেখানে আদালত সরকারকে পূর্ববর্তী এফআইআর এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার আইনি সুযোগ দিয়েছে। সংগঠনের মতে, এই নির্দেশ দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্রদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সিজেপির দাবি, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং কোনো ছাত্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। সেই আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেই তারা দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। অন্যথায় তারা সেই আন্দোলন থেকে সরে আসত না। সংগঠনের আশঙ্কা, কেন্দ্র ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি আদালতের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি খাঁড়া ঝুলিয়ে রাখতে পারে।

অভিজিৎ দিপকের হুঁশিয়ারি

সরকারের সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই চুক্তির কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে CJP। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ না হলে খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে এক বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করা হবে। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা— “ছাত্রদের টার্গেট করা এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে।”

বিহার ও অসম সরকারের পূর্ববর্তী উদাহরণের কথা উল্লেখ করে সিজেপির বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে জোর করে মামলা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেনি। সরকার সদিচ্ছা দেখালে আজও ওই মামলাগুলি তুলে নিতে পারে বা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই কেন্দ্র এবং এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির কাছে তাদের জোরালো দাবি, ২৫ জুলাইয়ের আশ্বাসের সমস্ত শর্ত অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের সামনে পেশ করা হোক, যাতে আদালত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। সরকারের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে দেশের রাজপথ ফের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

আন্দোলনের পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করেছিল CJP। পরবর্তীতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন এই আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দেয়। গত ২০ জুলাই সংসদের দিকে আন্দোলনকারীদের মিছিল এগোতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে এবং পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। সেই আন্দোলন পরবর্তীতে বিহার সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার না করার আশ্বাসের ভিত্তিতে সেই আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *