১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন! লাল-সাদা শাড়িতে ছবি দিয়ে দিলেন বড় আপডেট

এপার বাংলার উদ্দেশে অবশেষে রওনা হলেন ওপার বাংলার নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর তিনি ফের পা রাখতে চলেছেন তিলোত্তমায়। যাত্রা শুরু করার মুহূর্তে লাল পাড় সাদা শাড়িতে নিজের একটি ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল। শনিবার, ১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তাঁর একটি নতুন বইয়ের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এই আগমনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ইতিমধ্যেই ছেয়ে গিয়েছে তাঁর ছবি ও পোস্টার।

রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেক্যুলার মিশনের পক্ষে আয়োজক ওসমান গনি মল্লিক এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে যোগ দেবেন এই বাংলাদেশি সাহিত্যিক।

অতীতের সেইলড়াই ও উত্তাল কলকাতা

২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। কট্টরপন্থীদের প্রতিবাদের জেরে তৎকালীন বাম সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় এবং একপর্যায়ে সেনা নামাতে বাধ্য হয়। বামমনস্ক সাহিত্যিকদের (যাঁদের মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শঙ্খ ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরাও ছিলেন) সঙ্গে আলোচনা করে সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং লেখিকাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করেন। বাংলা সাহিত্য জগতের ইতিহাসে যা এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

নতুন সমীকরণ ও হোর্ডিং বিতর্ক

দীর্ঘ নির্বাসন ও আইনি জটিলতা পেরিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে গড়িয়াহাট ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে নিজের বিশাল হোর্ডিং দেখে আপ্লুত হয়ে তসলিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন,

“রাতের কলকাতা। আজ থেকে ১২ বছর আগে মেগাসিরিয়াল ‘দুঃসহবাসের গল্প’ লিখেছিলাম বলে সব হোর্ডিং খুলে দেওয়া হয়েছিল… আজকের এই নতুন হোর্ডিং খুলে নেওয়া হচ্ছে না। বাক স্বাধীনতার জয় এখানেই।”

আত্মিক টান ও স্থায়ী বসবাস নিয়ে জল্পনা

১৯৯৪ সালের ৮ অগাস্ট নিজের দেশ বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ থেকেও তাঁকে বিতাড়িত করা হয়। ২০১১ সালের পর দিল্লির স্থায়ী ঠিকানায় থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি তাঁর আজীবন এক গভীর আত্মিক টান রয়েছে। কলকাতায় এলেই তাঁর বুকের ভেতর দেশভাগের তীব্র যন্ত্রণা জেগে ওঠে বলে তিনি বারবার স্বীকার করেছেন।

তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “আমার হৃদয়ে কোনও কাঁটাতার নেই।” তবে কি এবার তিনি পাকাপাকিভাবে কলকাতাতেই স্থায়ী হবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে লেখিকা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকতে চান না এবং দিল্লিতে তিনি ভালোই রয়েছেন। তা সত্ত্বেও, বর্তমান এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন বাংলা তথা দেশের রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *