গ্যাস শেষ হওয়ার টেনশন দূর! সল্টলেকে আসছে দেশের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সিএনজি স্টেশন, আর কী কী সুবিধা মিলছে?

রান্না করতে গিয়ে হঠাৎ সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা কিংবা সিএনজি গাড়ির জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তা— এবার এই সমস্ত সমস্যার দিন ফুরোতে চলেছে সল্টলেকে। শুধু রান্নাঘরই নয়, সিএনজি চালিত গাড়ি চালকদের জন্যও আসতে চলেছে বিরাট স্বস্তির খবর। আর মাত্র দু’মাসের মধ্যেই সল্টলেকে চালু হতে চলেছে ২৪ ঘণ্টার সিএনজি স্টেশন (CNG Station)। এই প্রথম ইন্দিরা ভবন ও সেজ ভবনের মাঝে এফ এফ ব্লকে এই গ্যাস স্টেশন তৈরি করার কাজ এখন অত্যন্ত জোরকদমে চলছে।
পুজোার আগেই চালু হচ্ছে সিএনজি স্টেশন
বিজিসিএল (BGCL) সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, জ্যোতি বসুর বাড়ি বলে পরিচিত ইন্দিরা ভবন (বর্তমানে নজরুল ভবন) সংলগ্ন এলাকায় এই নতুন সিএনজি স্টেশনটি দুর্গাপুজোর আগেই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্টেশনটি চালু হয়ে গেলে সল্টলেক এবং তার আশেপাশের এলাকার সিএনজি চালিত অটো, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসের জ্বালানি সংগ্রহ করা আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও দ্রুততর হবে।
২৬ হাজার পরিবার পাবে পাইপলাইনের গ্যাসের সুবিধা
শুধু গাড়িচালকরাই নন, সাধারণ গৃহস্থদের জন্যও বড় সুখবর দিয়েছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (BGCL)। সংস্থার দাবি, সল্টলেককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে সেক্টর ১, ২ ও ৩-এর প্রায় ২৬ হাজার পরিবারের হেঁসেলে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধাননগর পুরনিগমের ২৯ থেকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ধাপে ধাপে এই সংযোগ দেওয়া হবে।
কাজের পথে প্রধান বাধা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়িত করতে গিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার মুখেও পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা এয়ারপোর্ট অথরিটির অনুমতি এখনও না মেলায় বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজ আটকে রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় অনুমতি মিলে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী। অনুমতি মিললেই মূল পাইপলাইনের কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং সল্টলেকবাসীর গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও বেশি নিরবচ্ছিন্ন ও স্বস্তিদায়ক হবে।