“দেখতে হৃতিকের মতো বলেই কি আমার পেছনে লেগেছেন কঙ্গনা?” পুরোনো বিতর্ক খুঁচিয়ে যা বললেন সৌরভ দাস!

বিজেপি সাংসদ তথা বিতর্কিত বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবং ‘সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (CJP)-এর মুখপাত্র সৌরভ দাসের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বাকযুদ্ধ এবার নতুন মোড় নিল। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ ও ‘বেকার’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন কঙ্গনা। এবার প্রখ্যাত সাংবাদিক বরখা দত্তের জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘মোজো স্টোরি’ (Mojo Story)-কে দেওয়া একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনাকে চরম ভাষায় আক্রমণ ও একহাত নিলেন এই সিজেপি নেতা।
হৃতিক প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনাকে কটাক্ষ সৌরভের
সাক্ষাৎকারে কঙ্গনার লাগাতার ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে সৌরভ জানান, তাঁর বন্ধুরা রীতিমতো অবাক হয়ে ভেবেছিলেন যে কেন হঠাৎ অভিনেত্রী তাঁর পেছনে লেগেছেন। এই প্রসঙ্গে এক ধাপ এগিয়ে সৌরভ অত্যন্ত রসাত্মক ও তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে বলেন, “আমার এক বন্ধু তো মজা করেই বলল— আমাকে নাকি দেখতে খানিকটা তরুণ বয়সের হৃতিক রোশনের মতো, হয়তো সেই কারণেই কঙ্গনা আমার পেছনে লেগেছেন!” সৌরভের এই একটিমাত্র মন্তব্যে মূলত ২০১৬ সালের সেই বহুচর্চিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘হৃতিক-কঙ্গনা’ বিতর্কই ফের একবার জাতীয় রাজনীতি ও বিনোদন মহলের অন্দরে উস্কে উঠল, যে সময়ে এক বিখ্যাত সাক্ষাৎকারে হৃতিক রোশনকে ‘সিলি এক্স’ (Silly Ex) বলে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত।
ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে সুস্থ আলোচনার আহ্বান
ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অহেতুক বাক্যবানের তীব্র সমালোচনা করে সৌরভ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, আজ দেশে সুস্থ আলোচনার সংস্কৃতি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এবং তার পরিবর্তে কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক শালীনতা ও শালীন মর্যাদা বজায় রেখেই মুখোমুখি বসে কথা বলা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
‘জেন জি’ ও শব্দচয়ন নিয়ে কঙ্গনাকে তীব্র ভর্ৎসনা
পাশাপাশি, কঙ্গনা রানাওয়াত সম্প্রতি দেশের নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মকে নিয়ে যে সমস্ত মন্তব্য করেছিলেন, তারও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন সৌরভ দাস। একজন দায়িত্বশীল সাংসদ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কঙ্গনার শব্দচয়ন আরও অনেক বেশি সংযত ও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সৌরভ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “নিজের শব্দ চয়নে যত্নশীল হন। নিজের ভেতরের হতাশা এভাবে জনসমক্ষে ব্যক্ত করবেন না। এমন কথাবার্তা কোনো মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির মতো শোনায় না। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে অন্তত দু’বার ভাবা উচিত। কাউকে এভাবে জনসমক্ষে অনাদর বা অপমান করা কোনো নেতার কাজ হতে পারে না।”
কফির আমন্ত্রণে কী প্রতিক্রিয়া সৌরভের?
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে সঞ্চালকের তরফ থেকে একটি মজার প্রশ্ন রাখা হয়— কঙ্গনা যদি ভবিষ্যতে তাঁকে কফির জন্য আমন্ত্রণ জানান, তবে কি তিনি সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করবেন? এর জবাবে অত্যন্ত নমনীয় ও পরিপক্ব অবস্থান নেন সৌরভ। তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি বা তাঁর সংগঠন সিজেপি (CJP) কখনই কোনো নির্দিষ্ট বিজেপি নেতা বা সরকারের ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা রাগ পুষে রাখেন না। দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের টানে তারা সবসময়ই সব ধরনের সুস্থ ও গঠনমূলক সংলাপে বিশ্বাসী। ব্যক্তিগত বৈরিতা ভুলে রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার এই বার্তা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।