ভবিষ্যতের চাবিকাঠি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? এআই-এ আকাশছোঁয়া বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন মার্ক জুকারবার্গ!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা কি শীঘ্রই কমে যেতে পারে? একসময় অনেক সংস্থার এমন ধারণা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। এখন আর শুধু প্রযুক্তি সংস্থাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণে পুরোদমে এআই-কে কাজে লাগাচ্ছে। আর এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থেকে ভবিষ্যৎ কৌশলের কেন্দ্রে এআই-কেই রাখছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা (Meta)।
ত্রৈমাসিক ফলাফল ও রেকর্ড বিনিয়োগের ঘোষণা
সম্প্রতি মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে সংস্থার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মানুষ মেটার অন্তত একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ বিলিয়ন এবং থ্রেডস (Threads)-এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৫০ কোটিরও বেশি ছুঁয়েছে।
এআই এখন আর কেবল ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং এটি ব্যবসা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই উপলব্ধি থেকেই মেটা ২০২৬ সালের ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (CapEx)-এর পূর্বাভাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের অনুমান করা হলেও, তা বাড়িয়ে এখন ১৩০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ, এআই পরিকাঠামো তৈরিতে আগের চেয়ে অনেক বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি, সম্প্রতি টেক্সাসের এল পাসোতে ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার তৈরির জন্যও ব্ল্যাকরকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তারা।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে মেটার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো কিছুটা কমলেও, সামগ্রিক ব্যবসায়িক আয় দারুণ শক্তিশালী রয়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে রেভিনিউ ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬০.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও নিট প্রফিট ১৪ শতাংশ কমে ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
এআই-এর জাদুতে আরও স্মার্ট হচ্ছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম
জুকারবার্গ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এআই প্রযুক্তির কল্যাণে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এখন ব্যবহারকারীদের পছন্দ আরও নিখুঁতভাবে বুঝতে পারছে। এর ফলে সঠিক মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে এবং বিজ্ঞাপনদাতারাও আগের চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৯০ লক্ষ ছোট ব্যবসা তাদের এআই-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন টুল ব্যবহার করছে। এমনকি উন্নত এআই ফিচারের জন্য ‘মেটা ওয়ান’ নামে নতুন সাবস্ক্রিপশন পরিষেবাও চালু করেছে সংস্থাটি।
ব্যক্তিগত সহকারী ও ব্যবসায়িক পার্টনার হবে এআই
মেটার পরবর্তী বড় লক্ষ্য এমন এআই এজেন্ট তৈরি করা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকা পালন করবে। হোয়াটসঅ্যাপে ইতিমধ্যেই মেটার এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং নিরাপত্তার জন্য ইনকগনিটো মোডও আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ২৪ ঘণ্টা সাহায্য করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও পরামর্শ দেবে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্যও এআই পরিষেবা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে উপলব্ধ বিজনেস এআই এজেন্ট খুব শীঘ্রই ইনস্টাগ্রামেও চালু হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সহজেই গ্রাহಕರ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে অর্ডার পরিচালনা ও বিক্রি বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
স্মার্ট গ্লাস ও ডেটা সেন্টারে জোর
শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপের গণ্ডীতেই আটকে থাকতে নারাজ মেটা। সংস্থার ‘মেটা স্মার্ট গ্লাস’-এ এআই এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যা আশপাশের পরিবেশ বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। যার প্রাথমিক বিক্রিও সংস্থার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে, এআই-কে শুধু বড় সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এখন সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে মার্ক জুকারবার্গের মেটা।