ভেটকি নয়, এবার চমক দিন কাতলায়! ঝটপট বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে ‘কাতলা ফিশ ফ্রাই’, রইল রেসিপি

বিকেল নামলেই হালকা ক্ষিদে আর মুচমুচে স্ন্যাক্সের লোভ—বাঙালির চিরন্তন উইক পয়েন্ট। আর তার সঙ্গে যদি থাকে গরম চা আর ধোঁয়া ওঠা ফিশ ফ্রাই, তবে তো আর কথাই নেই! ফিশ ফ্রাইয়ের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্লাসিক ভেটকি মাছের নাম। কিন্তু বর্তমান বাজারে ভেটকি মাছের যা আকাশছোঁয়া দাম, তাতে সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়া একপ্রকার অবশ্যম্ভাবী। তাই সাধ থাকলেও সাধ্যের বেড়াজালে অনেক সময়ই ভেটকি মাছের ফিস ফ্রাই খাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই! ভেটকিকে টা টা বাই বাই করে আজই আপনার রান্নাঘরে নিয়ে আসুন বাজেট-ফ্রেন্ডলি এক দুর্দান্ত বিকল্প—‘কাতলা ফিশ ফ্রাই’।
কম খরচে, হাতের কাছে থাকা সামান্য কিছু উপকরণ দিয়ে ঝটপট বানিয়ে ফেলা যায় এই সুস্বাদু পদটি। স্বাদে ও গন্ধে এটি ভেটকি ফ্রাইকেও অনায়াসে গোল দিতে পারে। জেনে নিন সহজ এই কাতলা ফিশ ফ্রাইয়ের কমপ্লিট রেসিপি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ (Ingredients)
সুস্বাদু ও মুচমুচে কাতলা ফিশ ফ্রাই তৈরির জন্য যে সমস্ত উপকরণের প্রয়োজন হবে, সেগুলি হলো:
কাতলা মাছের পেটি: ৫টি (বড় সাইজের হলে ভালো হয়)
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
গোলমরিচ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
গরমমশলা গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
আদা-রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
কাঁচালঙ্কা বাটা: ১ টেবিল চামচ (ঝাল আপনাদের পছন্দমতো বাড়াতে বা কমাতে পারেন)
টক দই: ১ টেবিল চামচ (মাছ ম্যারিনেট করার জন্য)
মুসুর ডাল: আধ কাপ (কোটিংয়ের জন্য এক গোপন অস্ত্র)
নুন: স্বাদমতো
সর্ষের তেল বা সাদা তেল: ভাজার জন্য পরিমাণমতো
সুস্বাদু কাতলা ফিশ ফ্রাই বানানোর সহজ প্রণালী (Step-by-Step Recipe)
ধাপ ১: মাছ পরিষ্কার ও ম্যারিনেশন
প্রথমে বাজার থেকে আনা কাতলা মাছের পেটিগুলি ভালো করে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন পেটির টুকরোগুলো যেন খুব বেশি মোটাও না হয়, আবার একদম পাতলাও না হয়। এরপর একটি পাত্রে মাছের টুকরোগুলো নিয়ে তাতে একে একে পরিমাণমতো নুন, হলুদ গুঁড়ো, গোলমরিচের গুঁড়ো, গরমমশলা গুঁড়ো, আদা-রসুন বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা এবং টক দই দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। মশলা যেন মাছের প্রতিটা ভাঁজে ভালোভাবে ঢুকে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এইবার ম্যারিনেট করা মাছের টুকরোগুলো অন্তত ১ ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। এতে মশলা মাছের ভেতরে ভালোভাবে মিশে যাবে এবং ভাজার পর মাছের ভেতরটা নরম ও জুসি থাকবে।
ধাপ ২: ডালের কোটিং পাউডার তৈরি
সাধারণত ফিশ ফ্রাইয়ে বিস্কুটের গুঁড়ো বা ব্রেডক্রাম্ব ব্যবহার করা হয়, তবে এই রেসিপির আসল টুইস্ট হলো মুসুর ডাল। প্রথমে আধ কাপ মুসুর ডাল ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। ডাল পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে একটি শুকনো কড়াইতে বা তাওয়ায় সেটি মাঝারি আঁচে খানিকক্ষণ ভেজে নিন। ডাল মুচমুচে হয়ে ভাজা হলে নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। ডাল ঠান্ডা হওয়ার পর একটি মিক্সার গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভালো করে গুঁড়ো (Fine Powder) বানিয়ে নিন। এই ডালের গুঁড়ো ফ্রাইয়ের ওপর দারুণ ক্রাঞ্চ বা মুচমুচে ভাব এনে দেবে।
ধাপ ৩: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা ছাঁকা তেলে ভাজা
এবার ম্যারিনেট করে রাখা মাছের টুকরোগুলো একে একে তুলে নিন এবং তার গায়ে তৈরি করে রাখা ডালের গুঁড়ো ভালো করে কোট (Coat) বা মাখিয়ে নিন। ডালের গুঁড়ো যেন মাছের গায়ে পুরু আস্তরণ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করুন।
এইবার কড়াইতে পরিমাণমতো সর্ষের তেল বা রিফাইন্ড তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে গ্যাসের আঁচ মাঝারি করে ডালের গুঁড়ো মাখানো মাছের পেটিগুলি তেলের মধ্যে ছেড়ে দিন। ডুবো তেলে হালকা আঁচে মাছগুলি ভাজতে থাকুন। একপাশ সোনালী হয়ে গেলে উল্টে অন্যপাশ ভাজুন। মাছের রং যখন সুন্দর লালচে ও মুচমুচে হয়ে উঠবে, তখন তেল থেকে তুলে কিচেন টাওয়েলে রেখে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।
পরিবেশন ও রান্নার কিছু বিশেষ টিপস
ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল আপনার শখের ও একদম ভিন্ন স্বাদের ‘কাতলা ফিশ ফ্রাই’! একটি প্লেটে গরম গরম এই ফিশ ফ্রাই সাজিয়ে সঙ্গে দিন কিছুটা স্যালাড (পেঁয়াজ ও শসা কুচি) এবং এক ফালি পাতিলেবু। আর সবশেষে খাঁটি বাঙালি স্টাইলে পাশে রেখে দিন কাসুন্দি।
বিশেষ টিপস: * মাছ ম্যারিনেট করার সময় সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারেন, এতে মাছের গন্ধ পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।
ডালের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিলে কোটিং আরও বেশি ক্রিস্পি বা মুচমুচে হয়।
বিকেলের স্ন্যাকসে বা ছুটির দিনে ভোজনরসিক অতিথিদের পাতে এই অভিনব ফিশ ফ্রাই পরিবেশন করলে তাঁরা আপনার রান্নার প্রশংসার পঞ্চমুখ হতে বাধ্য!