‘আমাকে নাকি হৃতিকের মতো দেখতে!’ কঙ্গনার চরম কটাক্ষে সটান জবাব সিজেপি মুখপাত্র সৌরভের

বিজেপি সাংসদ তথা বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মুখপাত্র সৌরভ দাসের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। কঙ্গনা তাঁকে জনসমক্ষে ‘অকর্মণ্য’ ও ‘বেকার’ বলে আক্রমণ করলেও, তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিখাদ রসিকতা ও ব্যঙ্গের অস্ত্রেই পালটা জবাব দিলেন তরুণ এই রাজনীতিক।
১. ‘আমাকে হৃতিকের মতো দেখতে!’ কঙ্গনার আক্রমণের মোক্ষম জবাব সৌরভের
সম্প্রতি নিট আন্দোলন ও জেন-জি প্রজন্মকে ঘিরে কঙ্গনার করা কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন সৌরভ দাস। এর পরেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পরপর পোস্ট করে সৌরভের ডিগ্রি ও সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কঙ্গনা এবং তাঁকে ‘বেকার’ বলে দাগিয়ে দেন।
এই ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে সৌরভ বলেন, বন্ধুরা তাঁকে বুঝিয়েছে যে কঙ্গনার হঠাৎ এমন রেগে যাওয়ার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে! রসিকতার সুরে সিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আমাকে নাকি একটু কম বয়সের হৃতিক রোশনের মতো দেখতে, তাই বোধহয় উনি এভাবে আমার পেছনে পড়েছেন! তবে উনি কেন যে আমার মতো একজনকে এভাবে আক্রমণ করতে গেলেন, তা সত্যিই পরিষ্কার নয়।” তবে কঙ্গনার প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিদ্বেষ নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
২. ‘জাস্ট টেক আ চিল পিল’, আলোচনার টেবিলে বসার বার্তা
কঙ্গনার প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি এড়িয়ে সৌরভ সুস্থ আলোচনার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী বলে জানান। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইয়ো কঙ্গনা, জাস্ট টেক আ চিল পিল। আসুন, সামনাসামনি বসে আলোচনা করা যাক।” বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংলাপ ও কথা বলার প্রবণতা কমে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে যে কোনো বিষয়েই খোলাখুলি আলোচনা সম্ভব।
৩. ‘বেকার’ কটাক্ষ ও জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতা
কঙ্গনার ‘বেকার’ মন্তব্যের মোক্ষম জবাব দিয়ে সৌরভ অত্যন্ত হালকা মেজাজে বলেন, কেউ বেকার বললে তাঁর গায়ে লাগে না, কারণ তিনি নিজের কাজ করেন। কটাক্ষ করে তিনি যোগ করেন, “আসলে মনে হচ্ছে ওঁর গুগল অপশনটাই ওঁর সামনে ভুল তথ্য দিচ্ছে!” একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কঙ্গনাকে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করার পরামর্শ দিয়ে সৌরভ বলেন, তরুণ প্রজন্মের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ শানানোর আগে ওঁর মনে রাখা উচিত সাধারণ মানুষের প্রতি ওঁর সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে। কঙ্গনা চাইলে যেকোনো সময় তাঁকে ফোন করতে পারেন এবং মুখোমুখি আলোচনায় তাঁর বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
৪. সেলিব্রিটিদের সমর্থন ও বিতর্কের জলঘোলা
উল্লেখ্য, কঙ্গনার এই কুরুচিকর ব্যক্তিগত আক্রমণ ও জেন-জি প্রজন্মকে ‘নর্দমা প্রজন্ম’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিনোদন জগতের তারকারাও। ড্রামা কুইন রাখি সাওয়ান্ত এবং জনপ্রিয় অভিনেতা সোনু সুদ সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন যে, একজন দায়িত্বশীল সাংসদের মুখে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপ্রত্যাশিত। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই তপ্ত বাগযুদ্ধ এখন গোটা দেশের বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে সমানভাবে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।