ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চরম সতর্কবার্তা! সামান্য অবহেলায় বাদ যেতে পারে পা, জানুন বাঁচার উপায়

ডায়াবেটিস এমন একটি নিঃশব্দ ঘাতক রোগ, যা শুধুমাত্র রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ায় না, ধীরে ধীরে শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এর মধ্যে চোখ, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মানুষের পায়ের ওপর। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা যদি পায়ের সামান্য যত্ন নিতেও অবহেলা করেন, তবে তা ডেকে আনতে পারে জীবনসংশয়ী বিপদ।
১. স্নায়ুর ক্ষতি ও অনুভূতির অভাব
দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শরীরের স্নায়ু এবং রক্তনালিগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে পায়ে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হলেও অনেক সময় রোগীরা তা ঘুণাক্ষরেও টের পান না। পায়ে ঝিনঝিনি ধরা, অবশ লাগা, জ্বালাপোড়া বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হলো স্নায়ুর ক্ষতির প্রাথমিক লক্ষণ। অনুভূতিশক্তি কমে যাওয়ায় পায়ে কোথাও কেটে গেলে, ফোসকা পড়লে কিংবা কাঁটা ফুটলেও তা সময়মতো বোঝা যায় না। আর এই অবহেলা থেকেই পরবর্তীতে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
২. শুষ্ক ত্বক ও সংক্রমণের ঝুঁকি
ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। এর ফলে গোড়ালি ফেটে যাওয়া এবং চামড়া ওঠার মতো ঘটনা ঘটে। এই ফাটা ত্বকের ফাটল দিয়ে সহজেই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে বড় ধরনের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই পা সর্বদা পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখা অত্যন্ত জরুরি। পায়ে কোনো ছোট ঘা বা ক্ষত হলে এবং তা সহজে না শুকালে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। কারণ ডায়াবেটিস থাকলে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ায় ক্ষত সারতে অনেক বেশি সময় নেয়, যা পরবর্তীতে আলসারের রূপ নিতে পারে।
৩. কোন লক্ষণগুলিতে এখনই সতর্ক হবেন?
পা লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, দুর্গন্ধ, পুঁজ বের হওয়া কিংবা ত্বকের রং কালচে হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। এগুলি দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার নিতে পারে যে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার বা বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত পা কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
৪. পা সুরক্ষায় করণীয় ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের পা পরীক্ষা করা উচিত। আয়না ব্যবহার করে বা পরিবারের কারো সাহায্যে পায়ের তলা ভালো করে দেখে নিন কোথাও কোনো ক্ষত বা রং বদল হয়েছে কিনা।
নিয়মিত সাফাই: হালকা গরম জল দিয়ে প্রতিদিন পা ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিন।
ময়েশ্চারাইজার: পা আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, তবে খেয়াল রাখবেন তা যেন আঙুলের ফাঁকে না লাগে।
সঠিক জুতো: কখনো খালি পায়ে হাঁটবেন না; সবসময় নরম, সঠিক মাপের জুতো এবং পরিষ্কার মোজা পরুন।
নখ কাটা: নিয়মিত নখ কাটুন, তবে খুব ছোট করে বা কোণ কেটে ফেলার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
সর্বোপরি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে বড় প্রতিকার। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, হালকা শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চললে এই ধরনের জটিলতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের ছোট্ট কোনো সমস্যাকেও কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।