কড়া আইন আনলেও ফাঁক থেকেই যাচ্ছে! প্রশ্নফাঁস রোধে কেন্দ্রের নয়া বিলকে তীব্র কটাক্ষ সিজেপির

দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক জলঘোলার জেরে সম্প্রতি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার নামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাধি চিরতরে রুখতে লোকসভায় পাস হয়েছে বহুল চর্চিত ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। তবে কেন্দ্র সরকারের এই নতুন আইনকে অস্ত্র করে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের স্পষ্ট দাবি, এই বিলে কেবল অপরাধের পর শাস্তির বিধান রয়েছে, কিন্তু গোড়াতেই গলদ দূর করার কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই।

১. শাস্তি নয়, মূল সমস্যা সমাধানের দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ আশুতোষের
কেন্দ্রের আনা নতুন এই সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সরকার বারবার অপরাধের পরের ঘটনা বা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন এবং কঠোর শাস্তির কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস যাতে প্রথম থেকেই আটকানো যায়, সেই বিষয়ে বিলে একটিও কার্যকরী কথা নেই। সিজেপির দাবি, কেবল কঠোর আইন এনে কাজের কাজ কিছু হবে না, নজর দিতে হবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায়।

প্রশ্নফাঁস রোধে সিজেপির তরফে কেন্দ্রকে অবিলম্বে ৫ দফা রূপরেখা মানার দাবি জানানো হয়েছে—

এনটিএ সংস্কার: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে।

স্বচ্ছতা আনয়ন: পরীক্ষার নির্দিষ্ট সূচি, ক্যালেন্ডার এবং সিলেবাস সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা আনতে হবে।

ভেন্ডর নিয়ন্ত্রণ: থার্ড পার্টি ভেন্ডর বা সার্ভিস প্রোভাইডারদের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে হবে এবং ব্ল্যাকলিস্টেড সংস্থা যাতে ঘুরপথে ফের সিস্টেমে না ঢুকতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

নিয়মিত অডিট: জালিয়াতি রুখতে ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল—উভয় ব্যবস্থারই নিয়মিত অডিট বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাবিদ এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২. রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন অভিজিৎ দীপের
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, নীতি ও মানসিকতা পরিষ্কার না থাকলে শুধু আইন প্রণয়ন করে কোনো লাভ হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন আইনের ঢাকঢোল পেটানো সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি প্রশ্ন ফাঁস মামলার প্রথম শুনানিতে খোদ সিবিআইয়ের আইনজীবীই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না!

৩. আইনে কী কী কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হলো?
শিক্ষার্থীদের দেশজোড়া প্রতিবাদের মুখে পড়ে গত ২৭ জুলাই লোকসভায় এই সংশোধনী বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ২০২৪ সালের ‘পাবলিক এগজামিনেশনস’ আইনকে আরও কড়া করে এই বিলে সমস্ত অপরাধকে ‘নন-বেলেबल’ (জামিন অযোগ্য) এবং ‘কগনিজেবল’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে:

ব্যক্তিগত অপরাধ: অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি ৩-৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

পরিচালনাকারী সংস্থা বা ভেন্ডর: দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানার অঙ্ক ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং সরকারি পরীক্ষার কাজ থেকে নিষিদ্ধ করার মেয়াদ ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে এক টানা ৮ বছর করা হয়েছে।

সংগঠিত চক্র: অর্গানাইজড ক্রাইমের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস করলে সর্বনিম্ন শাস্তি ৭ বছর এবং জরিমানা সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সময়সীমা বেঁধে তদন্ত: বিলে নতুন ১২এ (12A) এবং ১২বি (12B) ধারা যুক্ত করে সিবিআই বা এসটিএফ-এর মতো তদন্তকারী সংস্থাকে মামলা হাতে পাওয়ার ঠিক ২ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *