“রক্তেই মিথ্যা কথা বলা আছে!” প্রাক্তন স্ত্রী শ্বেতা তিওয়ারির সব অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন রাজা চৌধুরী

টেলি দুনিয়ার অন্যতম চর্চিত এবং তিক্ত বিচ্ছেদগুলির মধ্যে সবার আগে উঠে আসে শ্বেতা তিওয়ারি এবং রাজা চৌধুরীর নাম। ১৯৯৮ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা জুটির পথ শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে আইনি বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। বিগত দীর্ঘ বছর ধরে শ্বেতা একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে দাবি করে এসেছেন যে, বৈবাহিক জীবনে রাজা তাঁর ওপর প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন, এমনকী ফ্ল্যাট পাওয়ার লোভে নিজের মেয়ে পলক তিওয়ারির কাস্টডিও স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। এত বছর পর সেই সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন রাজা চৌধুরী।
শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন রাজা:
প্রাক্তন স্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ একঝটকায় উড়িয়ে দিয়ে রাজা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শ্বেতার বলা কথাগুলির পুরোটাই বানানো মিথ্যা। তাঁর দাবি, “আমি কখনও ওর গায়ে হাত তুলিনি।” তবে রাগের বশে ভাঙচুর করার কথা স্বীকার করে রাজা বলেন, ঝগড়ার সময় হয়তো রাগের মাথায় তিনি ঘরের টিভি, দরজা বা টেবিল ভেঙেছেন, কিন্তু কোনওদিন গায়ে হাত তোলেননি। গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, রাগের মুখে কিছু কথা বেরিয়ে যাওয়া মানেই কাউকে ছোট করা নয়। এখানেই থেমে না থেকে শ্বেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করে রাজা দাবি করেন, ওঁর রক্তেই মিথ্যা কথা বলার প্রবণতা রয়েছে এবং শ্বেতা গ্র্যাজুয়েট তো দূরের কথা, দশম শ্রেণির ডিগ্রিও দেখাতে পারবেন না।
৯৩ লাখ টাকার ফ্ল্যাট এবং পলকের কাস্টডি নিয়ে সাফাই:
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল ৯৩ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ে পলকের কাস্টডি ত্যাগ করার প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে নিজের সাফাই দিয়ে রাজা জানান, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আদালতের চক্কর কেটেও শ্বেতা তাঁকে তাঁর মেয়ের মুখ দেখতে দেননি। নিজের একটা মাথা গোঁজার আশ্রয়ের জন্যই তিনি বাবার কেনা সেই ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটটি দাবি করেছিলেন, যার আসল দাম ছিল মাত্র ৯ লাখ টাকা। রাজার প্রশ্ন, “শান্তিতে বাঁচার জন্য একটুকরো মাথার ওপর ছাদ চাওয়া আর মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়া কি এক হল? শ্বেতা নিজের মতো করে গল্প বানিয়ে নিয়েছে।”
মেয়ে পলকের সঙ্গে বর্তমান দূরত্ব ও ইনস্টাগ্রাম ব্লক:
প্রাক্তন স্ত্রীর পাশাপাশি নিজের মেয়ে পলক তিওয়ারির সঙ্গেও যে তাঁর সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেতা। বহু বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। রাজা জানান, ২০২২ বা ২০২৩ সালে নিজের জন্মদিনে তিনি ভালোবেসে মেয়েকে ঘরে ডেকেছিলেন নিজহাতে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু পলক এসে মাত্র দশ মিনিট থাকার পরেই কাজ আছে বলে সেখান থেকে চলে যান। রাজার মতে, কথাবার্তার মাঝে শ্বেতার নাম চলে আসাতেই অস্বস্তিতে পড়ে যান পলক, আর সেটাই ছিল তাঁর অমন আচমকা বেরিয়ে যাওয়ার আসল কারণ। এই চরম অপমান ও মানসিক দূরত্ব আর সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন স্ত্রী শ্বেতা ও মেয়ে পলক—দুজনকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে ব্লক করে দিয়েছেন রাজা চৌধুরী।