কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস! ১০০ মিটারে সোনা ও রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করলেন দিলীপ ও বাসিল

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন ও সোনালী ইতিহাস গড়ল ভারত। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ (T47) বিভাগের ফাইনালে একই ইভেন্টে সোনা ও রুপো জিতে দেশের মুকুটে নতুন পালক যোগ করলেন দিলীপ মাহাদু গাভিত এবং মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ।

ফাইনাল ম্যাচের রোমাঞ্চকর লড়াই
সোনার জয়: দুর্দান্ত ফর্মে থেকে গেমস রেকর্ড গড়ে মাত্র ১০.৭১ সেকেন্ডে রেস শেষ করে সোনা জিতে নেন দিলীপ মাহাদু গাভিত।

রুপোর জয়: অন্যদিকে, মরশুমের সেরা টাইমিং করে ১০.৮৩ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন পার করে রুপো নিজের নামে করেন মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ।

এছাড়া ইংল্যান্ডের কেভিন স্যান্টোস ১০.৮৫ সেকেন্ডে রেস শেষ করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।

এই জোড়া পদক জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের মোট সোনার সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে। এর আগে ভারোত্তোলনে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে মীরাবাই চানু এবং প্যারা অ্যাথলেটিক্সে মহিলাদের শটপুট এফ৫৭ বিভাগে শর্মিলা ধাঙ্কর সোনা জিতেছিলেন। সবমিলিয়ে এই পদকগুলির হাত ধরে তিনটি সোনা, ন’টি রুপো এবং তিনটি ব্রোঞ্জ নিয়ে পদক তালিকার অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে ভারত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও দিলীপের প্রতিক্রিয়া
প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজা ট্র্যাকে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ায় সমস্ত প্রতিযোগীদের জন্যই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল। এই প্রসঙ্গে সোনাজয়ী দিলীপ জানান, “শুরুটা একটু আস্তে হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে গতি বাড়াতে পেরেছি। শেষপর্যন্ত জিততে পেরে দারুণ লাগছে।” আবহাওয়া ভালো না থাকায় সঠিক টাইমিং ধরা এবং ঠান্ডায় ঠিকমতো ওয়ার্ম আপ করাও বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি জানান।

তবে এই বিশাল সাফল্যের পরেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ এই তারকা স্প্রিন্টার। তাঁর পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিক্স। দিলীপ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “এখন চাকরির কথা ভাবছি না। আমার লক্ষ্য আরও পদক জেতা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে হতে চলা প্যারা এশিয়ান গেমস এবং তারপর প্যারালিম্পিক্সে আরও ভাল ফল করতে চাই।” (উল্লেখ্য, টি৪৭ বিভাগটি মূলত সেই সমস্ত প্যারা অ্যাথলেটদের জন্য, যাঁদের একটি হাত নেই কিংবা এক হাতের শক্তি, নড়াচড়া বা সমন্বয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।)

দিলীপ গাভিতের সংগ্রাম ও সাফল্যের পেছনের গল্প
দিলীপের এই সোনা জয়ের পথটি মোটেও সহজ ছিল না, এর নেপথ্যে রয়েছে এক অনুপ্রেরণাদায়ী লড়াইয়ের ইতিহাস। মহারাষ্ট্রের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া দিলীপ ছোটবেলায় উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে দুর্ঘটনা বা সমস্যার কারণে বাঁ হাত হারাতে হয়। গ্রামে উন্নত প্রশিক্ষণের কোনো পরিকাঠামো না থাকায় অ্যাথলেটিক্সে বড় হওয়ার স্বপ্নও ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত।

সেই কঠিন সময়েই তাঁর প্রতিভা প্রথম নজরে পড়ে কোচ বৈজয়ন্ত কালে-র। তিনিই দিলীপের বাবা-মাকে বুঝিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কোচ কালের কথায়, স্কুলে প্রথম দেখেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভার কথা বোঝা গিয়েছিল। প্যারা প্রতিযোগিতা সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলেও সাধারণ অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতাতেও ও দুর্দান্ত পারফর্ম করত।

প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নাম লেখানোর আগেই সক্ষম অ্যাথলেটদের সঙ্গে লড়ে পুনেতে খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে দুটি পদক এবং অনূর্ধ্ব-১৮ স্তরেও একটি পদক জিতেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে নাসিকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শুরু করার পর দিলীপের জীবনে নতুন মোড় আসে। আর সেই নাসিকের ধুলোমাখা ট্র্যাক থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দেশের জন্য সোনা এনে দিলেন দিলীপ গাভিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *