২৪ তম কিস্তির ২০০০ টাকা পাওয়ার আগে চেক করুন বেনিফিশিয়ারি লিস্ট! ১টি ভুলেই নাম বাদ লাখ লাখ কৃষকের

দেশের কোটি কোটি কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা অন্যতম বড় উদ্যোগ হলো ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ বা পিএম কিষাণ যোজনা (PM-Kisan)। গত জুন মাসে এই প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির ২০০০ টাকা সুবিধাবাদীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এবার কৃষকদের নজর আগামী ২৪তম কিস্তির দিকে। তবে পরবর্তী কিস্তির টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার আগে উপভোক্তাদের তালিকায় আপনার নাম বহাল রয়েছে কি না, তা একবার চেক করে নেওয়া জরুরি।
অনেক সময় দেখা যায়, গ্রামের বাকি কৃষকরা টাকা পেলেও কারিগরি বা নথিপত্র সংক্রান্ত ভুলের কারণে কোনো কোনো কৃষকের অ্যাকাউন্ট টাকা ঢোকে না বা বেনিফিশিয়ারি তালিকা থেকে হঠাৎ নাম বাদ পড়ে যায়।
বাড়ি বসেই মোবাইলে কীভাবে দেখবেন বেনিফিশিয়ারি লিস্ট (Beneficiary List)?
আপনার নাম তালিকায় আছে কি না, তা বাড়ি বসেই মাত্র কয়েকটি ক্লিকে দেখে নেওয়া সম্ভব:
১. প্রথমে পিএম কিষাণের অফিশিয়াল পোর্টাল (pmkisan.gov.in) ওপেন করুন।
২. হোম পেজে থাকা ‘Beneficiary List’ অপশনটিতে ক্লিক করুন।
৩. এবার ড্রপ ডাউন মেনু থেকে আপনার রাজ্য, জেলা, সাব-ডিভিশন, ব্লক ও গ্রামের নাম সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
৪. সব তথ্য দেওয়ার পর ‘Get Report’ বাটনে ক্লিক করলেই স্ক্রিনে আপনার এলাকার সমস্ত যোগ্য কৃষকদের নাম চলে আসবে। সেখানে নিজের নামটি দেখে নিতে পারবেন।
আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে: পোর্টালে গিয়ে ‘Know Your Status’ অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ক্যাপচা কোড এবং রেজিস্টার্ড মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিলেই আপনার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সামনে ভেসে উঠবে।
যে ৪টি প্রধান কারণে বাতিল হচ্ছে আবেদন ও টাকা আটকাবে:
তদন্তে দেখা গিয়েছে, মূলত চারটি বড় ভুলের কারণে হাজার হাজার কৃষকের আবেদন বাতিল বা টাকা দেওয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে:
১. ই-কেওয়াইসি (e-KYC) অসম্পূর্ণ থাকা: নিয়মিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করানো।
২. জমির রেকর্ডে অসংগতি: আবেদনকারীর জমির কাগজপত্র বা ল্যান্ড সিডিং (Land Seeding) তথ্য সরকারি পোর্টালে আপডেট না থাকা।
৩. ব্যাঙ্কে আধার লিঙ্ক না থাকা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক বা ডিবিটি (DBT) সক্রিয় না থাকা।
৪. বানানের গরমিল: ব্যাঙ্ক পাসবই এবং আধার কার্ডে নামের বানানে অমিল থাকা।
আবেদন বা টাকা আটকে গেলে কী করবেন?
কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, একবার আবেদন বা কিস্তি আটকে গেলে ভুলবশত নতুন করে আবেদন করবেন না। এতে একই ব্যক্তির ডুপ্লিকেট রেকর্ড তৈরি হয়ে জটিলতা আরও বাড়বে। বদলে যে কারণে সমস্যা হয়েছে, সেটির সমাধান করুন:
ই-কেওয়াইসির জন্য: অফিশিয়াল পোর্টালে বায়োমেট্রিক/ওটিপি দিয়ে অথবা নিকটবর্তী সিএসসি (CSC) সেন্টারে গিয়ে তৎক্ষণাৎ ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করুন।
জমির সমস্যার জন্য: স্থানীয় ভূমি রাজস্ব আধিকারিক (BLRO) বা কৃষি আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে নথিপত্র জমা দিন।
আধার লিঙ্কের জন্য: আপনার নিজস্ব ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় করার আবেদন জানান।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার মাস অন্তর ২,০০০ টাকা করে বছরে মোট ৬,০০০ টাকা দেয় কেন্দ্র। সেই হিসেব অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসেই ২৪তম কিস্তির টাকা আসার সম্ভাবনা প্রবল, যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।