জনগণনা শুরু হতেই রাজ‍্যে ফিরছে ‘মর্নিং স্কুল’? রাজ‍্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের বড় বয়ান!

রাজ্যে শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় জনগণনার (Census) কাজ। প্রশাসনিক স্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে যুক্ত থাকবেন বিপুল সংখ্যক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকা। তবে সরকারি কাজের চাপে যাতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন কোনভাবেই থমকে না যায়, তার জন্য অভিনব ছক কষছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে ফের রাজ্যজুড়ে ‘মর্নিং স্কুল’ বা সকালে স্কুলের ক্লাস চালুর ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নতুন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।

সম্প্রতি জলপাইগুড়ির আর্ট গ্যালারিতে আয়োজিত ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘে’র ১১তম জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। সেখান থেকেই শিক্ষকসমাজ ও সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দেন।

পড়াশোনা ও সরকারি কাজ: কীভাবে মিলবে সামঞ্জস্য?
সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্টভাবে জানান, দেশের জনগণনা অত্যন্ত জরুরি একটি জাতীয় দায়িত্ব। তবে সেই কাজের জন্য কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রতিদিনের পড়াশোনাকে অবহেলা করা যাবে না।

দুই দায়িত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করার পথ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন:

“জনগণনার কাজ শিক্ষক-শিক্ষিকারাই করবেন। কিন্তু তাতে যাতে স্কুলের পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেই লক্ষ্যে শিক্ষকমহলের একাংশের তরফ থেকেই সকালে স্কুল চালুর একটি লিখিত প্রস্তাব এসেছে। সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে জানান, যদি সকালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পঠনপাঠন ও ক্লাস সম্পন্ন করে নেওয়া যায়, তবে দিনের বাকি সময়টিতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই সুচারুভাবে জনগণনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। এতে সরকারি দায়িত্ব পালন এবং স্কুলের পড়াশোনা— দু’টিই সমান তালে বজায় থাকবে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে চূড়ান্ত আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও নতুন ভাবনা
উল্লেখ্য, চলতি বছরে তীব্র দাবদাহ ও গরমের ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে বেশ কিছু দিন সকালে ক্লাস নেওয়া হয়েছিল। পাহাড় বাদে সমতলের একাধিক জেলার বিদ্যালয়ে ওই বিশেষ ব্যবস্থা সফলভাবে কার্যকরও হয়েছিল।

এবার আবহাওয়া নয়, বরং জাতীয় জনগণনার কাজ ও নিয়মিত পাঠদানের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতেই ফের ‘মর্নিং স্কুল’ চালু করার দাবি উঠে আসছে শিক্ষকমহলে। শিক্ষামন্ত্রীদের এই ইতিবাচক আশ্বাসে এখন রাজ্যজুড়ে বিজ্ঞপ্তি জারির অপেক্ষায় শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *