গুরুদ্বার চত্বরে যোগব্যায়াম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জঠেদারের এই কড়া নির্দেশ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক!

গুরুদ্বার চত্বরে কোনো ধরনের যোগব্যায়াম সেশন আয়োজন বা তার অনুমতি না দেওয়ার জন্য দেশের সমস্ত গুরুদ্বার পরিচালনা কমিটিকে কঠোর নির্দেশ দিলেন অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জঠেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গজ। সোমবার স্বর্ণমন্দির চত্বরের মঞ্জি সাহাব দিওয়ান হলে হুকুমনামা পাঠের সময় প্রাত্যহিক ‘কথা’ বা ভাষণে এই ঐতিহাসিক বার্তা দেন তিনি। জঠেদারের মতে, বর্তমান যুগের যোগচর্চা মূলত শারীরিক কসরত ও সুস্থতার রুটিনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার সঙ্গে শিখ ধর্মীয় নীতি ও ঐতিহ্যের কোনো মিল নেই।

ঠিক কী বলেছেন অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জঠেদার?
সম্প্রতি একদল শিখ যুবকের তরফ থেকে কিছু গুরুদ্বারে যোগব্যায়াম কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই কঠোর অবস্থান নেন জঠেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গজ।

ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদিও ঐতিহাসিকভাবে ‘যোগ’ শব্দের অর্থ ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, তবে বর্তমানে প্রচলিত যোগব্যায়াম মূলত শারীরিক ভঙ্গি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রত্যেকেই এই ধরনের শরীরচর্চা করতেই পারেন, তবে লঙ্গার হল বা দিওয়ান হল সহ কোনো গুরুদ্বার চত্বরের ভেতরে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা শিখ ধর্মীয় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

জঠেদার বলেন, “গুরুদ্বারগুলি এমন পবিত্র স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে ভক্তরা গুরবানি ও শব্দের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। গুরুদ্বার চত্বরে যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ প্রবর্তন করা হলে তা ভক্তদের গুরুর বাণী থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে।”

অকাল তখত কী এবং এর গুরুত্ব কতখানি?
শিখ ধর্মের অন্যতম সর্বোচ্চ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো এই ‘অকাল তখত’, যা শিখ সম্প্রদায়ের সর্ব্বোচ অস্থায়ী ক্ষমতার কেন্দ্রও বটে। অমৃতসরের হরমন্দির সাহিব বা স্বর্ণমন্দিরের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি ১৬০৬ সালে ষষ্ঠ শিখ গুরু, গুরু হরগোবিন্দ স্থাপন করেছিলেন।

হরমন্দির সাহিব যেখানে শিখ ধর্মের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, ঠিক তেমনি অকাল তখত এর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অস্থায়ী কর্তৃত্বের প্রতীক। অতীতে শিখ গুরুরা এবং পরবর্তীকালে শিখ নেতারা সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিবাদ নিষ্পত্তি এবং ঐতিহাসিক নির্দেশিকা জারি করার জন্য এই আসনটিকেই ব্যবহার করতেন। আজও ধর্মীয় শৃঙ্খলা এবং সামাজিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে অকাল তখত সর্বেসর্বা। বিশ্বজুড়ে শিখদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা এবং ধর্মীয় আচার-আচরণ সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে এই সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক আসনের হাতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *