কাটমানি বা সিন্ডিকেটরাজ রুখতে বড় পদক্ষেপ! আজ থেকেই কি চালু হচ্ছে রাজ্যের নতুন টোল ফ্রি হেল্পলাইন?

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, নির্মাণকাজ কিংবা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাটমানি এবং সিন্ডিকেটরাজের নানা অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে সাধারণ মানুষকে বিব্রত করেছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করেছে। সেই লক্ষ্যেই এবার আরও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে রাজ্যের নতুন টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর।
কীভাবে কাজ করবে এই হেল্পলাইন?
প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই বিশেষ টোল ফ্রি হেল্পলাইনে ফোন করে এখন থেকে রাজ্যের যেকোনো প্রান্তের সাধারণ মানুষ কাটমানি, সিন্ডিকেটবাজি, দুর্নীতি কিংবা যে কোনো সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। এর ফলে আমজনতার অভিযোগ সরাসরি পৌঁছে যাবে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহলে। এরপর নির্দিষ্ট ও কম সময়ের মধ্যে প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
কড়া নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
এর আগে প্রশাসনিক বৈঠকে ঘুষের দাবি ও হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজ্য পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে দুই মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টরকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানান যে, ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিকেলবেলা তাঁর দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ার পর রাতেই তাঁদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভবিষ্যতেও যদি কোনো সরকারি কর্মী বা আধিকারিক এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন সরকারের এই হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।