২০৪৭-এর উন্নত ভারত! মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার মেগা ব্লুপ্রিন্ট ভারতের!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কল্পনায় ‘২০৪৭ সালের উন্নত ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (FTA)-কে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো ভারতও রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এই পথে হাঁটছে। চীন, আমেরিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেভাবে এফটিএ-র মাধ্যমে নিজেদের বাজার প্রসারিত করেছে, ভারতও এখন সেই কৌশল অবলম্বন করছে।

অতীতে কোথায় ঘাটতি ছিল?
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের বেশিরভাগ এফটিএ চুক্তি হয়েছিল আসিয়ান, সার্ক, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার মতো অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে। সরকারের অভিযোগ, পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকারের আমলে সেই চুক্তিগুলো অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছিল, যার জেরে দেশীয় বাজার চীনা পণ্যের মুখে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। ২০১৪-পূর্ববর্তী এফটিএগুলোর আওতায় প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্মিলিত জিডিপির দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর বর্তমান সরকারের আমলে সম্পাদিত ও আলোচিত এফটিএগুলোর আওতায় প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্মিলিত জিডিপির দেশগুলো যুক্ত হয়েছে।

২০২২ সালের পরের নতুন বাণিজ্য নীতি
২০২২ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রচ্যের মতো প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। শিল্পপতি ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইএফটিএ (EFTA) থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ড থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে। কাগজবিহীন বাণিজ্যের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের পণ্যের ডাম্পিং রোধে ‘রুলস অফ অরিজিন’-এর মতো কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে।

কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্প রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা
দেশীয় উৎপাদনকারী, কৃষক, জেলে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME)-র স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এফটিএ চুক্তিতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্য (মাখন, চিজ ইত্যাদি), প্রধান খাদ্যশস্য (গম, চাল, ভুট্টা), আলু, মৌসুমী সবজি, সর্ষে, সয়াবিন এবং সাধারণ মশলাপাতিকে শুল্ক ছাড়ের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

রাজ্যভিত্তিক রপ্তানির অপার সম্ভাবনা
ভারত সরকারের এই নতুন বাণিজ্য চুক্তির সুফল পেতে চলেছে দেশের প্রতিটি রাজ্য। যেমন:

পশ্চিমবঙ্গ: প্রধানত চা (দার্জিলিং চা), সামুদ্রিক খাদ্য, হস্তশিল্প এবং কৃষি পণ্যের পাশাপাশি আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মহারাষ্ট্র ও গুজরাট: বস্ত্র, রাসায়নিক, রত্ন ও অলঙ্কার এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে দেশীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

দক্ষিণ ও অন্যান্য রাজ্য: কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে ইলেকট্রনিক্স এবং আইটি সেক্টর এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে অর্গানিক চাষ ও পর্যটনের প্রসার ঘটবে।

২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন এই এফটিএ নীতিগুলো ভারতীয় পণ্য ও সেবাকে বৈশ্বিক বাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *