হাই তোলার ওই কয়েক সেকেন্ডের জন্য বড় ক্ষমতা হারায় শরীর! নেপথ্যে রয়েছে কোন অবাক করা কারণ?

হাই তোলা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। কমবেশি সব মানুষই দিনে একাধিকবার হাই তোলেন, এবং বিষয়টি নিয়ে সচরাচর কেউ মাথাও ঘামান না। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, হাই ওঠার অর্থ হলো ক্লান্তি বা ঘুম পাচ্ছে। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই তোলার এই ছোট্ট প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন এক চমকপ্রদ তথ্য, যা অনেকেই হয়তো গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখেননি। আর তা হলো—হাই তোলার ঠিক ওই নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ সাময়িকভাবে শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন!
কেন এমন ঘটে?
বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাই তোলার সময় মুখের বেশ কয়েকটি পেশি অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। মুখ বড় করে হাঁ করার ফলেই এই পেশিগুলি মুখের ভেতরের নানা অংশকে স্পর্শ করে, যার মধ্যে কানের ভেতরের একটি সংবেদনশীল অংশও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফলেই হাই তোলার মুহূর্তটিতে মানুষ সাময়িকভাবে বাইরের কোনো শব্দ শুনতে পান না।
অবশ্য বিশেষজ্ঞদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, হাই তোলা দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি অত্যন্ত দ্রুত ঘটে। হাই তোলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কানের শ্রবণক্ষমতা আবার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি ঘটনা
চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো রোগ বা অসুস্থতা নয়। মানব শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও ক্রিয়াকলাপের অংশ হিসেবেই এটি ঘটে থাকে। জন্মগতভাবেই মানুষের শরীর এমনভাবে তৈরি, যেখানে হাই তোলার সময় শ্রবণেন্দ্রিয় সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে এটি বদলানোর কোনো উপায় নেই এবং জীবনের প্রতিটি দিন হাই তোলার ওই স্বল্প ক’টি মুহূর্ত শব্দহীন অবস্থাতেই কাটাতে হয়।