এবার মাঠে ‘E20 জনতা পার্টি’! নীতিিন গডকড়ীর পদত্যাগ দাবি করল নতুন অনলাইন গ্রুপ

দেশজুড়ে আলোচিত ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্টারনেটে জন্ম নিয়েছে একটি নতুন আন্দোলন। কেন্দ্রের ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি নীতি (Ethanol-Blended Fuel Policy)-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘E20 জনতা পার্টি’ নামের একটি নতুন নাগরিক অধিকার আন্দোলন। এই গোষ্ঠীটি পেট্রল পাম্পগুলোতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির পাশাপাশি ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রল কেনার বিকল্প দেওয়ার দাবি তুলেছে এবং একই সাথে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ীর পদত্যাগ দাবি করেছে। মূল দাবি ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যগ্রাহকদের স্বাধীনতার অধিকার: নিজেদের কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং একটি নাগরিক চালিত ভোক্তা অধিকার আন্দোলন হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই গ্রুপটি জানাচ্ছে যে, তারা ইথানল মিশ্রণের বিরুদ্ধে নয়। তবে মোটর চালকদের যেন বাধ্যতামূলকভাবে ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রল না কিনে খাঁটি পেট্রল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশ: জ্বালানি মিশ্রণের সঠিক লেবেলিং এবং যানবাহনের মাইলেজ ও ইঞ্জিনের কার্যকারিতার ওপর ইথানলের প্রভাব নিয়ে সরকারি তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে।নীতিন গডকড়ীকে নিশানা: কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল নীতি চালুর প্রধান প্রবক্তা নীতিন গডকড়ীর পদত্যাগ দাবি করেছে এই গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, পুরোনো গাড়িগুলোর ক্ষতি ও মাইলেজ কমে যাওয়া সত্ত্বেও ভোক্তারা একই দামে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ইথানল নীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রস্তুতিভারতের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সমালোচনা চলছে। সমালোচকদের মতে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও মাইলেজ কমিয়ে দেয়, যা পুরোনো গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর। অন্যদিকে, সরকারের যুক্তি হলো—তেল আমদানি কমানো, ইথানল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস করার লক্ষ্যেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে।এদিকে, এই অনলাইন আন্দোলনের প্রভাব অফলাইনেও পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন পরিবহন ও ট্যাক্সি ইউনিয়ন এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। দিল্লির একটি ট্যাক্সি ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৪ অগাস্ট ইথানল নীতির প্রতিবাদে সংসদ অভিমুখে মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আন্দোলনটি ইতিমধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং আগের CJP আন্দোলনের মতোই ইন্টারনেট-কেন্দ্রিক ও ভাইরাল রূপ নিয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *