৮ম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! কবে থেকে মিলবে বর্ধিত বেতন? জানুন লেটেস্ট খবর

কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেসাইয়ের নেতৃত্বে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, পেনশন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পর্যালোচনা করার জন্যই এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, আগামী ৩ অগাস্ট অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যকালের নয় মাস বা নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক সময় পূর্ণ হতে চলেছে। বর্তমানে এই কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও পেনশনভোগীদের সাথে আলোচনা প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী ৫টি সাম্প্রতিক আপডেট
গত কয়েক মাসে কমিশনের তরফ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নিচে প্রধান আপডেটগুলো তুলে ধরা হলো:
২৪ জুলাই ২০২৬ (পুদুচেরি সফর): আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পুদুচেরিতে অষ্টম বেতন কমিশনের সফর ও বৈঠকের নোটিশ জারি হয়েছে। এর জন্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
২৪ জুলাই ২০২৬ (চেন্নাই সফর): আগামী ৭-৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চেন্নাইতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সাথে বৈঠকের নোটিশ দেওয়া হয়েছে (শেষ তারিখ: ১৮ অগাস্ট)।
২৩ জুলাই ২০২৬ (দিল্লি বৈঠক): রাজধানীতে কেন্দ্রীয় সরকারি বিভাগ ও ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে আগামী ৭ এবং ১০ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে (শেষ তারিখ: ৩১ জুলাই)।
২৯ মে ২০২৬ (মেমোরেন্ডাম জমা): বিভিন্ন ইউনিয়ন ও কর্মচারীদের পরামর্শ বা মেমোরেন্ডাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছিল।
২৯ মে ২০২৬ (কলকাতা সফর): গত ৯-১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে কলকাতায় কমিশনের আঞ্চলিক পরামর্শমূলক কর্মসূচি ও বৈঠকের নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
অষ্টম বেতন কমিশনের মূল মাইলফলক ও সময়কাল
১৬ জানুয়ারি ২০২৫: সরকার কর্তৃক অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।
২৮ অক্টোবর ২০২৫: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক কমিশনের ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (Terms of Reference)-কে অনুমোদন।
৩ নভেম্বর ২০২৫: আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম বেতন কমিশনের গঠন।
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অনলাইন পোর্টাল চালু।
এপ্রিল–জুলাই ২০২৬: বিভিন্ন রাজ্যে মেমোরেন্ডাম জমা ও আঞ্চলিক স্তরে স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক।
২০১৭ সালের মধ্যভাগ: কমিশন কর্তৃক সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য সময়।
কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য জরুরি কিছু তথ্য
অষ্টম বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা সুপারিশ পেশ করার আগে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। আগামী অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি, চেন্নাই এবং পুদুচেরিতে নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রধানত আলোচনা হবে, সেগুলো হলো—
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor): এটি নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ রয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর যথাক্রমে ১.৮৬ এবং ২.৫৭ ছিল। তবে বিপিএমএস (BPMS) এবং এনসি জেসিএম (NC JCM)-এর মতো প্রধান ইউনিয়নগুলো এবার ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৫ গুণের বেশি করার দাবি তুলছে। যদিও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বেতন ও পেনশন সংশোধন: মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে মূল বেতন এবং পেনশন বাড়ানোর রূপরেখা।
ভাতা ও জীবনযাত্রার মান: কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সামগ্রিক কাজের পরিবেশ উন্নত করার উপায়।
বিশেষ সতর্কতা: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে শুধুমাত্র কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://8cpc.gov.in/)-এর তথ্যের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৭ সালের মে-জুন মাসের মধ্যে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে এবং সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে সংশোধিত বেতন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।