১০০ ডলারে পৌঁছতেই হাহাকার! তেলের বাজারে আগুন লাগতেই জরুরি পদক্ষেপের পথে আন্তর্জাতিক সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত চলা তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে ফের লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের দোরগোড়ায় বা ছুঁয়ে ফেলার উপক্রম হওয়ায় বিশ্বব্যাপী নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজার শান্ত করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR) থেকে আরও একটি বড় চালান বাজারে ছাড়তে পারে বলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।
এক্সপার্ট স্পার্টা কমোডিটিজের সিনিয়র তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ-এর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের উপরে স্থায়ী হয়, তবে আইইএ এই জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে। এর আগে চলতি বছরের ১১ মার্চ আইইএ জরুরি তেল রিজার্ভের প্রথম চালান হিসেবে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা করেছিল। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই পুরনো চালানের সম্পূর্ণ অংশ এখনও সঠিকভাবে বরাদ্দ বা নিঃশেষ করা হয়নি। ফলে দামের ঊর্ধ্বমুখী জিভ সামলাতে সেই অব্যবহৃত ভাণ্ডারই ফের হাতিয়ার হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের বিশ্ব তেল সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৪ সালে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ। প্যারিসে সদর দফতর অবস্থিত এই সংস্থার বর্তমানে ৩২টি সদস্য দেশ রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের সরকারি জরুরি মজুদ ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। পাশাপাশি, সরকারি-দায়বদ্ধ শিল্প মজুত হিসেবে তাদের কাছে রয়েছে আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল। ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত মোট ছয়বার নিজেদের তেল ভাণ্ডার থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। ১৯৯১, ২০০৫, ২০১১ এবং ২০২২ সালের পর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ফের সেই পুরনো পথে হাঁটার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে, গত কয়েকদিন লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত শনিবার অপরিশোধিত তেলের দামে সাময়িক পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে ৯৬.৭৮ ডলারে নেমে আসে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৯০ ডলারের নিচে নেমে লেনদেন হতে শুরু করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজার এখনও চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে।