কাঞ্চন-শ্রীময়ীর দ্বিতীয় সন্তান আসার খবর কেন রাখা হয়েছিল গোপনে? ফাঁস করলেন অভিনেত্রী নিজে

টলিপাড়ায় ফের খুশির জোয়ার। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক এবং শ্রীময়ী চট্টরাজ মল্লিকের কোল আলো করে এসেছে নতুন অতিথি। গত শনিবার কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন শ্রীময়ী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম কন্যা সন্তান কৃষভির জন্মের পর, এবার শ্রাবণ মাসে কাঞ্চন-শ্রীময়ীর সংসারে এল ছেলে ‘কৃষিভ’। প্রথম সন্তানের মতো এবারও গর্ভাবস্থা এবং নতুন অতিথি আসার খবর সম্পূর্ণ গোপনে রেখেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু কেন এই গোপনীয়তা? আর এই পুরো ৯ মাসের দীর্ঘ ও কঠিন জার্নিতে কার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠার কথা অকপটে স্বীকার করলেন শ্রীময়ী?
কেন গোপন রাখা হয়েছিল খবর?
ইন্ডাস্ট্রিতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ থাকে না। তবে শ্রীময়ী ও কাঞ্চনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি তাঁরা একেবারে শেষ পর্যন্ত ঘুণাক্ষরেও কাউকে টের হতে দেননি। প্রথম সন্তান কৃষভি তখন একেবারেই ছোট, তাই দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর জানার পর আনন্দের পাশাপাশি শ্রীময়ীর মনে কাজ করছিল প্রচণ্ড ভয় ও মানসিক টেনশন। এই জার্নিটা আদৌ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে তীব্র দোলাচলে ভুগেছিলেন তিনি। নজর এড়াতে এবং সুস্থভাবে পুরো সময়টা কাটাতে তাই খবরের গোপনীয়তা বজায় রাখাই শ্রেয় মনে করেছিলেন এই দম্পতি।
শ্রীময়ীর পাশে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে একে অপরের পিঠে ছুরি মারার ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক, সেখানে ২৯ বছর বয়সে এসে বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন টলিউডের সুপারস্টার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে শ্রীময়ী জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বামী কাঞ্চন এবং বাবা-মায়ের পর তিনি প্রথম যার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি আর কেউ নন, খোদ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
ভয় ও মানসিক অবসাদ কাটাতে সেদিন ঋতুপর্ণা তাঁকে অত্যন্ত শক্ত হাতে আগলে ধরেছিলেন। শ্রীময়ীর কথায়, ঋতুদি তাঁকে সাফ জানিয়েছিলেন, “যে পৃথিবীতে আসছে তাকে আমন্ত্রণ জানা, মানুষ মাথা ঠুকে সন্তান পায় না, তোকে ঈশ্বর না চাইতেই দিয়েছে, একদম কোনো নেগেটিভ চিন্তা করবি না।”
শুধু মৌখিক পরামর্শ দেওয়াই নয়, নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে শ্রীময়ীর মনোবল বাড়িয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। তিনি বলেছিলেন, “আমি যে সময় দু’বাচ্চার মা হয়েছি, সেই সময় আমি ব্যাক টু ব্যাক ছবির হিরোইন। তখন একজন প্রথম সারির নায়িকার পক্ষে মা হওয়া পেশাগতভাবে খুব সহজ বিষয় ছিল না। এখানে তুই তো অনেক ভাগ্যবতী, পরপর মা হওয়ার সুযোগ পেলি।” একই সঙ্গে শ্রীময়ীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থেকে নিজের ও অনাগত সন্তানের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, “তোর দিদির মতো আমি সবসময় তোর পাশে আছি, যেকোনো আপদ-বিপদ বা সুখের দিনে।”
বন্ধুত্বের পরম নিদর্শন
ঋতুপর্ণা যে কেবল কথার কথা বলেননি, তা প্রমাণ হয়েছে প্রতি পদক্ষেপে। বিগত সাড়ে ৯ মাস ধরে প্রতিদিন নিয়ম করে শ্রীময়ীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন তিনি। এমনকি, হাসপাতালের ডেট পড়ার ঠিক আগের দিন, নিজ দায়িত্বে শ্রীময়ীকে সাধ খাওয়ান ঋতুপর্ণা। সাধ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ডেলিভারি—পুরো বিষয়টির গোপনীয়তা বজায় রেখে বন্ধুত্বের এক বিরল নিদর্শন রেখেছেন তিনি।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এমন একজন প্রকৃত অভিভাবক ও বন্ধুকে পাশে পেয়ে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবতী বলে মনে করছেন শ্রীময়ী। তাঁর মতে, একজন ভালো অভিনেত্রী হওয়ার আগে ভালো মনের মানুষ হওয়া জরুরি, আর ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রতি পদে সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন।