জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে নবান্নের বড় নির্দেশ! পুরনো জমির দলিল চাওয়ার নিয়ম বাতিল, স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ

জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) প্রদান এবং পুনর্বাচন নিয়ে রাজ্যের তরফে এক বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হলো। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু বা পুনরায় যাচাই করার ক্ষেত্রে পুরনো জমির দলিল (Land Deed) জমা দেওয়া এবার থেকে আর বাধ্যতামূলক নয়। নবান্নের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন এই নির্দেশিকা?
বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ আসছিল যে, জাতিগত শংসাপত্র পেতে গেলে ১৯৫০ সালের আগের পুরনো জমির দলিল জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই জট কাটাতেই নবান্নের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় নথি যেন আবশ্যিক না করা হয়।

রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকায় ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের পুরানো নির্দেশিকাগুলির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, আবেদনকারীর জাতিগত পরিচয় বা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দেওয়ার জন্য কোনওভাবেই পুরনো জমির দলিল বাধ্যতামূলক করা যাবে না। রাজ্যজুড়ে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একটিমাত্র অভিন্ন নীতি বজায় থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই এই নয়া নির্দেশ।

ওবিসি মামলার সাম্প্রতিক আপডেট
অন্য একটি ঘটনায়, বুধবার রাজ্যের ওবিসি (OBC) সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বড় স্বস্তি মিলেছে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। রাজ্য সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আপাতত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি উচ্চ আদালত। ফলে গত ১৮ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিটিই বহাল রয়েছে।

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়: ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওবিসি তালিকা থেকে আপাতত ৭৪টি জনগোষ্ঠী বাদ থাকবে এবং অন্তর্ভুক্ত থাকবে ৬৬টি। তবে বাদ পড়া জনগোষ্ঠীগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের পুনরায় বিবেচনায় রাখার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয়।

উচ্চ আদালতের এই রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট থেকেও এই মামলা প্রত্যাহার করায় হাইকোর্টের মূল রায়ই এখন কার্যকর রয়েছে।

সাধারণ মানুষের সুরাহা
আইনি জটিলতার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার পথ সহজ করতে নবান্নের এই নতুন নির্দেশ বড় ভূমিকা নেবে। এর ফলে সারা রাজ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে জেলা ভেদে নিয়মের আর কোনো তারতম্য ঘটবে না এবং সাধারণ মানুষ সহজে এই পরিষেবা লাভ করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *