থানায় আটকে মারধর, ৪ লক্ষ টাকা দাবি! মধ্যপ্রদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ যুবক

মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। গোটেগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এক যুবককে জোর করে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর, টাকা-মোবাইল ছিনতাই এবং মুক্তির বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, ঘটনার পর থেকেই গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ওই যুবক সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছে। সম্প্রতি কালেক্টরের গণশুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশ বিভাগে তীব্র হুলস্থুল পড়ে গেছে।

গোটেগাঁওয়ের আজাদ ওয়ার্ডের বাসিন্দা চন্দ্রিকা রাই গত সোমবার কালেক্টরের গণশুনানিতে হাজির হয়ে পুরো ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ই জুলাই তাঁর ছেলে দীপক রাই অনুপম মলের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসেছিল। সেই সময় গোটেগাঁও থানার ওসি তাঁর চার সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই দীপককে ধাক্কা মারতে মারতে জোর করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেন।

টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের মারাত্মক অভিযোগ
চন্দ্রিকা রায়ের দাবি, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর দীপককে একটি পুরনো সেলে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যে সেলটিতে তাঁকে বন্দি করা হয়েছিল, সেটি সুকৌশলে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। পুলিশ দীপকের পকেট থেকে নগদ ১৭,০০০ টাকা ও একটি দামী মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর পরিবারের লোকজন দীপককে ছাড়াতে থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে রাখার কথা অস্বীকার করে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে শুরু করে।

৪ লক্ষ টাকা দাবি ও নিখোঁজ রহস্য
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত দশটা নাগাদ দীপককে একটি সাদা স্ট্যাম্প পেপারে সই করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) টাকা দাবি করা হয়। পরদিন সকালেও পরিবারকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে টাকা না দিলে ভুয়া মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। সেই থেকে গত ১৮ই জুলাই থেকে দীপক নিখোঁজ রয়েছে। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি
ছেলের জীবন নিয়ে চরম আশঙ্কায় থাকা চন্দ্রিকা রায় কালেক্টরের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর ছেলের দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের এমন অমানবিক ও বেআইনি আচরণে গোটা পরিবারটি এখন গভীর মানসিক অবসাদ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য
পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে নরসিংহপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ ভুরিয়া জানান, ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ হাতে এসেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনো পুলিশ কর্মী দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *