ছাত্র বিক্ষোভে বলপ্রয়োগ নিয়ে সেলিব্রিটিরা মুখ খুললেও কেন চুপ আর মাধবন? অভিনেতার নীরবতা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু তীব্র বিতর্ক

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন এবং গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ঘিরে তৈরি হওয়া তুমুল বিতর্কে একে একে বিনোদন জগতের তারকারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা তথা পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII)-এর চেয়ারম্যান আর মাধবন (R Madhavan)। আর তাঁর এই দীর্ঘ নীরবতাকেই কেন্দ্র করে এবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হলো তাঁকে। বিশেষ করে এফটিআইআই-এর একাংশের পড়ুয়ারা দেশের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন।
দেশজুড়ে শিক্ষাদুর্নীতি, নিট (NEET) কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের আবহে দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের সংঘর্ষ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই শাবানা আজমি, জিনাত আমান, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপ, অরিজিৎ সিং ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
এফটিআইআই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও পোস্টার সাঁটানোর ঘটনা
এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে দেশের অন্যতম শীর্ষ চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আর মাধবনের নীরবতা তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। পড়ুয়াদের স্পষ্ট অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্নে এফটিআইআই প্রধানের অবস্থান শুরুতেই স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এফটিআইআই ক্যাম্পাসে তীব্র বিক্ষোভ দেখান একদল ছাত্রছাত্রী। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অভিনেতা মাধবনের অফিস ঘরের দরজায় ‘NEET For Sale’ লেখা প্রতিবাদী পোস্টারও সেঁটে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন অভিনেতা।
এই সমালোচনার ঝড় কেবল ক্যাম্পাসের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সোশ্যাল মিডিয়াতেও মাধবনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনেকেই অতীতে তাঁর অভিনীত ‘রং দে বাসন্তী’ কিংবা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো ছবিগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে চলচ্চিত্রগুলোতে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, শিক্ষা ও প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পর্দার সেই প্রতিবাদী চরিত্রগুলোর প্রসঙ্গ টেনে অনেক নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, বাস্তবের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি কেন সম্পূর্ণ নির্বাক?
সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া ও জল্পনা
এই সমালোচনামূলক পোস্টগুলির একটিতে অভিনেতা অভয় ভার্মা এবং অভিনেতা সোহম মজুমদারের প্রতিক্রিয়াও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে সোহম মন্তব্য করেন যে এমন আচরণই তিনি মাধবনের কাছ থেকে আশা করেছিলেন। পাশাপাশি, বহু সাধারণ নেটিজেনও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন যখন প্রধান জাতীয় আলোচনার বিষয়, তখন একটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের এভাবে নীরব থাকা কতটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?
যদিও এই চাঞ্চল্যকর বিতর্ক ও তীব্র সমালোচনার মুখে এখনও পর্যন্ত অভিনেতা আর মাধবনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তাঁর এই রহস্যময় নীরবতা যে বিতর্ককে দিন দিন আরও তীব্র করে তুলছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে এফটিআইআই পড়ুয়াদের লাগাতার প্রতিবাদ এবং সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা গোটা ঘটনাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে।