পুলিশে অভিযোগ করায় ১৯ লক্ষ টাকা জরিমানা! খাপ পঞ্চায়েতের নিদানে সমাজছাড়া গোটা পরিবার, শিউরে ওঠা ঘটনা

রাজস্থানের সিরোহি জেলা থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও মানবতাকে লজ্জায় ফেলে দেওয়ার মতো এক অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। জেলার মামাবলী গ্রামের দেবসী সম্প্রদায়ের একটি পরিবার গত এক মাস ধরে চরম সামাজিক বয়কটের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শিশুদের সামান্য বিবাদ এবং পুলিশে মামলা করার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০টি গ্রামের খাপ পঞ্চায়েত বেআইনিভাবে বসে ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর ১৯ লক্ষ টাকার বিপুল আর্থিক জরিমানা চাপায়। শুধু তাই নয়, সেই টাকা আদায়ের পরেও অতিরিক্ত ৪ লক্ষ টাকার ভোজের খরচ না দেওয়ায় পরিবারটিকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত ৩০শে মে পুরনো শত্রুতার জেরে মামাওয়ালি গ্রামে একটি গাড়িতে থাকা কিছু লোক ইসরা গ্রামের বাসিন্দা কাসনা রাম ও তার সঙ্গীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনায় সেদিনই সিরোহী সদর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিটও পেশ করে। কিন্তু পুলিশের এই আইনি পদক্ষেপে বেজায় চটে যায় সম্প্রদায়ের কিছু প্রভাবশালী ও মাতব্বর ব্যক্তি। এরপর সরূপগঞ্জ থানা এলাকার ইসরা গ্রামে ১০টি গ্রামের পঞ্চদের নিয়ে একটি খাপ পঞ্চায়েত ডাকা হয়।

১৯ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ৪ লক্ষ টাকার ভোজের ফতোয়া
পঞ্চায়েতের খামখেয়ালি রায়ে নির্যাতিতা পরিবারের ওপর ১৯ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের জরিমানা চাপানো হয়। ভয়ে ও চাপের মুখে পড়ে অসহায় পরিবারটি কোনোমতে এই অর্থ জোগাড় করে পরিশোধও করে দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; এরপর পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নতুন করে ৪ লক্ষ টাকার একটি বিশাল ভোজের খরচ দেওয়ার দাবি তোলা হয়।

সমাজ থেকে বহিষ্কারের হুমকি
পরিবারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, অতিরিক্ত ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে ভোজের আয়োজন করা তাদের পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়। এরপরই খাপ পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে স্বৈরাচারী ফরমান জারি করা হয়। ভুক্তভোগী ডুঙ্গারাম দেবাসি জানান, ভোজের খরচ বহন করতে না পারায় পঞ্চায়েতের নির্দেশে পুরো পরিবারটিকে সমাজ থেকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। গত এক মাস ধরে তাঁদের সম্প্রদায়ের কেউ তো বটেই, আশপাশের কেউ তাঁদের বাড়িতে পা রাখছেন না। এমনকী তাঁরাও অন্য কারও বাড়িতে যেতে পারছেন না। প্রায় এক মাস আগে পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং পুলিশ কেবল তদন্তের কথা বলেই দায় সারছে বলে অভিযোগ।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি
ক্রমাগত সামাজিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট ডুঙ্গারাম দেওয়াসী ও তাঁর পরিবার এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সামাজিক পঞ্চায়েতের নামে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো এই ধরনের অবৈধ আর্থিক জরিমানা ও অমানবিক বয়কট অবিলম্বে কঠোর হাতে দমন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মম হয়রানির শিকার হতে না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *