একুশে জুলাইয়ের রেশ কাটতেই এবার ইডির জালে তৃণমূল! তলব দলের ‘চেক সাইনিং অথারিটি’ শুভাশিস চক্রবর্তীকে

একুশে জুলাইয়ের হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচির রেশ কাটতে না কাটতেই সোজা অ্যাকশনে নেমে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা ‘চেক সাইনিং অথারিটি’ শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে শুভাশিসবাবু হাজিরা দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছিলেন, তবে গোয়েন্দাদের তরফে তাঁকে নতুন করে আর কোনো বাড়তি সময় দেওয়া হয়নি বলেই খবর।
ইডির স্ক্যানারে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
ইডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের মোট তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর অন্যতম ‘চেক সাইনিং অথারিটি’ হিসেবে নাম রয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীর। আর সেই কারণেই তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কেবল শুভাশিসবাবুই নন, ওই অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ‘চেক সাইনিং অথারিটি’-দেরও খুব শীঘ্রই তলব করতে চান তদন্তকারীরা।
মূলত অ্যাকাউন্টগুলিতে কোথা থেকে এবং কীভাবে টাকা এসেছে, সেই সমস্ত তহবিলের উৎস কী, এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে বা কোন খাতে খরচ করা হয়েছে—তার সম্পূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ খতিয়ে দেখতে চাইছেন আধিকারিকরা। এছাড়া অ্যাকাউন্ট থেকে যখনই টাকা তোলা হয়েছে, তা কোন যথাযথ ভিত্তির ওপর নির্ভর করে তোলা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও তলব করা হয়েছে।
জল্পনায় অভিষেক ও ডেরেকের নাম
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই তদন্তের মোড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির ‘চেক সাইনিং অথারিটি’ হিসেবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের নামও জড়িয়ে রয়েছে। ফলস্বরূপ, খুব শীঘ্রই ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে পারেন তাঁরাও—এমনটাই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দলীয় বৃত্তে শুভাশিস চক্রবর্তী বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট পরিমণ্ডলের বলে পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যাদবপুরের সাংসদ ছিলেন, সেই সময় কুঁদঘাট কিংবা বেহালার মতো এলাকায় তাঁর অনুগামী হিসেবে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পা রেখেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মতো তরুণেরা। আলোকবৃত্তের বাইরে থেকে বরাবরই একজন দক্ষ ও নীরব সংগঠক হিসেবে দল পরিচালনা করে আসা শুভাশিস চক্রবর্তীকে ইডির এই তলব যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।