থাইল্যান্ডে লোভনীয় চাকরির ফাঁদ! মিয়ানমারে সাইবার চক্রের বন্দিশালা থেকে উদ্ধার দুই কর্ণাটকী যুবক

থাইল্যান্ডে লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে সর্বনাশের মুখে পড়া কর্ণাটকের দুই যুবককে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বৈধ কাজের বদলে তাদের পাচার করা হয়েছিল মিয়ানমারের সীমান্তে, যেখানে চাইনিজ পরিচালিত একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে তাদের জোর করে বন্দি রেখে অপরাধমূলক কাজে বাধ্য করা হচ্ছিল।
কর্ণাটক সাইবার কমান্ড, ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C), এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), পররাষ্ট্র মন্ত্রক এবং মিয়ানমারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সফল উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
মিয়ানমারে ভয়াবহ পাচারচক্র
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচারকারীরা ওই দুই যুবককে থাইল্যান্ডে ডেটা এন্ট্রি এবং কম্পিউটার সংক্রান্ত আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়েছিল। কিন্তু থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মিয়ানমারের ওই গোপন সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে পৌঁছানোর পর সশস্ত্র প্রহরীরা তাদের পাসপোর্ট এবং সমস্ত পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়। এরপর বিশ্বজুড়ে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যামের মতো অপরাধমূলক কাজে অংশ নিতে তাদের উপর চরম চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সাইবার অপরাধে বাধ্য করার মর্মান্তিক পরিণতি
সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, ওই যুবকরা অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হতে অস্বীকার করলেই তাদের উপর নেমে আসত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। সাইবার প্রতারণার কাজে নামাতে তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়।
অবশেষে কোনোমতে ভারতে থাকা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই যুবক এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে শুরু হয় যৌথ উদ্ধার অভিযান।
প্রশাসন ও সাইবার সেলের কঠোর সতর্কতা
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণাটক সাইবার কমান্ড কেন্দ্রীয় সংস্থা ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে যুবকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে দুই যুবকই সুস্থভাবে ভারতে ফিরে এসেছেন।
এই ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসন দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক বেশি বেতনের চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রলুব্ধ না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশে পাড়ি জমানোর আগে যেকোনো চাকরির অফার শুধুমাত্র অনুমোদিত এবং বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন, যাতে আর কেউ মানব পাচার ও সাইবার অপরাধের ফাঁদে না পড়েন।