“রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতক!”-মমতার প্রস্তাব খারিজ করে বড় হুংকার কংগ্রেসের

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার পতনের পর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজ্যে বিপুল আসনে জয়ী হয়ে বিজেপি সরকার গড়ার পর থেকেই কোণঠাসা শাসক শিবির। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে পরাস্ত করতে এবার পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে বিরোধী জোটের সওয়াল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৫ বৈশাখ কালীঘাটের বাড়ি থেকে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রথম জোটের ইঙ্গিত দেওয়ার পর, মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সভার মঞ্চ থেকে আরও একবার সেই জোটবার্তা দিলেন তিনি। তবে মমতার এই আহ্বানে কি আদৌ ইতিবাচক সাড়া দেবে কংগ্রেস? তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বাংলায় আগামী দিনে তিনি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন। রাজ্যের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেত্রী বলেন, “বাংলার সব রাজনৈতিক দলকে বলছি, যারা সত্যিই বিজেপি-র বিরুদ্ধে, জোট বাঁধুন, তৈরি হোন।”

এমনকি বিজেপির বিরুদ্ধে এই বৃহত্তর লড়াইয়ে তাঁর বা দলের যে কোনও ধরনের ‘ইগো’ বা জেদ নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন মমতা। এর আগে গত জুন মাসে কংগ্রেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দিল্লি গিয়ে INDIA জোটের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অতীতে ২০২৪ সালের লোকসভা বা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এককভাবে লড়ার নীতি নিলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিরোধী ঐক্যের পক্ষেই জোর সওয়াল করলেন তৃণমূল নেত্রী।

প্রদেশ কংগ্রেসের চরম অনীহা ও আক্রমণ

মমতার এই জোরালো জোটবার্তাকে আমল দিতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলীয় মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “তৃণমূল নেত্রীর এখন হঠাৎ মনে পড়েছে ইন্ডিয়া ব্লক ও জোটের কথা। এতদিন উনি ন্যারেটিভ তৈরি করেছিলেন যে সারা দেশে তিনি একাই বিজেপিকে আটকাতে পারেন এবং জোটের নেতৃত্ব ওঁকেই দেওয়া হোক। কিন্তু যে বিজেপিকে উনি নিজে বাংলায় জায়গা করে দিয়েছেন, সেই বিজেপি আজ ওঁনাকে শূন্য করে দিয়েছে, তৃণমূল এখন শেষ।”

তিনি আরও পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল নেত্রী একজন “পলিটিক্যাল বিট্রেয়ার” বা রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতক, তাই তাঁর সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। এই মুহূর্তে রাজ্যে কংগ্রেস সম্পূর্ণ একাই লড়বে এবং বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দলের থেকেই তারা সমদূরত্ব বজায় রাখবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি জোটের চাপ দেয়, তবে রাজ্যের মাটির বাস্তব পরিস্থিতি বুঝেই রাজ্য শাখা তার বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। এমনকি আগামী বছরের শুরুতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস একাই যে ব্রিগেডে সভা করবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, মমতার জোটে ফেরার আহ্বানে কংগ্রেসের তরফ থেকে তীব্র প্রত্যাখ্যান আসায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *