সিডনির বন্ডি বিচ হত্যাকাণ্ডে জীবন বাজি রেখে কুখ্যাত বন্দুকবাজের সামনে ত্রাতা হায়দ্রাবাদের ক্যাবচালক! পেলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিন কার্ড

সিডনির বন্ডি বিচ শ্যুটিংয়ের ভয়াবহতার মাঝে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০ জনের প্রাণ বাঁচানো হায়দ্রাবাদের এক ভারতীয় ক্যাবচালককে তাঁর অসাধারণ বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী নাগরিকত্ব (Permanent Residency) প্রদান করা হয়েছে। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাহসিকতার এই অনন্য নজির স্থাপনকারী ৩৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম রহমত পাশা। সরাসরি গুলির মুখে দাঁড়িয়েও আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করায় আজ তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
অসাধারণ বীরত্বের বিরল সম্মান
গত ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বন্ডি বিচ জুড়ে যখন চরম আতঙ্ক ও ছোটাছুটি শুরু হয়, তখন প্রাণভয়ে পালিয়ে না গিয়ে সোজা বিপদের মুখে এগিয়ে যান রহমত। গুলিকে পাশ কাটিয়ে তিনি একের পর এক গুরুতর আহত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিতে সাহায্য করেন।
তাঁর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি সরাসরি বিপদের মাত্রা কমার পরও তিনি ঘটনাস্থলেই থেকে যান এবং আতঙ্কিত পর্যটকদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সবরকমভাবে সাহায্য করেন।
অস্ট্রেলিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর এই সাহসিকতার মূল্য দিয়ে তাঁকে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের স্থায়ী নাগরিকত্বের আবেদনও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধু তাই নয়, উদ্ধারকাজের সময় তিনি মাথায় যে টুপিটি পরেছিলেন, তা সিডনি মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে এবং তাঁকে একাধিক সাহসিকতা পুরস্কারের জন্যও মনোনীত করা হয়েছে।
আজও তাড়া করে ফেরে সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে প্রভূত সম্মান পেলেও রহমত পাশা জানিয়েছেন, সেই ভয়াবহ হামলার স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। हाल-এর হায়দ্রাবাদ সফরে তিনি জানান, ওই ঘটনার পর তিনি মারাত্মক পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এ আক্রান্ত হন এবং কিছুদিনের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে কাজের অযোগ্য ঘোষিত হন। তিনি এখনও নিয়মিত ভীতিজনক স্বপ্ন দেখেন এবং রাতের পর রাত মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েই অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও রক্তস্নাত শিশুদের মুখ ভেসে ওঠার আতঙ্কে জেগে ওঠেন।
নিজের মনে চরম মানসিক trauma থাকা সত্ত্বেও রহমত বন্ডি বিচ হামলার বহু survivors-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এবং এই ট্র্যাজেডি কাটিয়ে উঠতে তাদের প্রার্থনা সভাতেও অংশ নিচ্ছেন।
বন্ডি বিচ হামলার নেপথ্যে কী ঘটেছিল?
২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বন্ডি বিচ শ্যুটিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে ১৫ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হন। এর আগে হায়দ্রাবাদের এক বাবা ও ছেলের নাম এই হামলার মূল অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে আসায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
তবে সমস্ত বিশৃঙ্খলা ও আত্দঙ্কের মাঝে রহমত পাশার নিঃস্বার্থ ও সাহসী ভূমিকা অস্ট্রেলিয়া ও ভারত—উভয় দেশেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের অন্যতম অন্ধকারতম দিনে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষদের জীবন বাঁচাতে যে সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন, এই স্থায়ী নাগরিকত্ব তারই যথাযোগ্য সম্মান।