NEET কেলেঙ্কারিতে চরম জেদ! মোদী সরকারের সঙ্গে ইগো যুদ্ধে অনড় ‘ককরোচ পার্টি’, কার অহংকার ভাঙবে আগে?

NEET পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন ৩২তম দিনে গড়াল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কার জেদ আগে ভাঙবে? ব্যারিকেড আর পুলিশের লাঠিচার্জের রেশ কাটিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনার জন্য সরকারকেই প্রথম পদক্ষেপ করতে হবে।
আলোচনার শর্ত ও সরকারের অবস্থান
মাত্র দুই মাস আগে তৈরি হওয়া ব্যাঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ৩০ বছর বয়সী নেতা অভিজিত দীপ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার যদি কথা বলতে চায়, তবে তাদের এখানে আসতে হবে এবং আমাদের শর্ত মেনে নিতে হবে। সরকারের এই অহংকার এবার বন্ধ হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, সরকার পক্ষ বৈঠকের দায় আন্দোলনকারীদের ওপরেই চাপিয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীরা কথা বলতে চাইলে তারা আলোচনায় বসতে তৈরি। তবে সিজেপি নেতৃত্বের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনা যন্তর মন্তর বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ স্থানে হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মূল দাবি থেকে তাঁরা একচুলও সরছেন না।
পুলিশি দমনপীড়ন ও গৃহবন্দির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
কয়েক দিন আগেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। এরপর থেকেই ভারী পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে যন্তর মন্তর চত্বর।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একদিকে পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার নাটক করা হচ্ছে। সিজেপি নেতা অভিজিত দীপ গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, সিজেপি প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠিয়ে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবনে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, যাতে আন্দোলনকারীদের এই দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া যায়।
সরকারের নীরবতা ও নির্ধারিত বৈঠক
অভিজিতের এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত সোমবার, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদে যাওয়ার চেষ্টা করার পর জে পি নাড্ডা সিজেপি-র দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং তাঁদের দাবি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর মধ্যাহ্ন নাগাদ বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। সব মিলিয়ে আন্দোলন আর সরকারের এই মুখোমুখি অবস্থানে দিল্লির রাজপথের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বেড়েই চলেছে।