৩.২ লক্ষ কোটি টাকা উধাও! ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খরচ দেখে আঁতকে উঠল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে লাফিয়ে বাড়ছে মার্কিন সামরিক ব্যয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ওয়াশিংটন প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.২ লক্ষ কোটি টাকা) ব্যয় করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। গত মে মাসে পেন্টাগনের দেওয়া অনুমানের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পেন্টাগন এখন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ বিলিয়ন ডলার তহবিলের জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে।

কোষাগারে টান, তল্লাটে বড় ধাক্কা
কংগ্রেসের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত ৮৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই তহবিলকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, এই অর্থ বরাদ্দ না হলে—

মার্কিন সেনাদের নিয়মিত বেতন প্রদান ব্যাহত হতে পারে।

অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসতে পারে।

নিরবচ্ছিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রাণহানির ক্রমবর্ধমান তালিকা
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বাড়ছে প্রাণহানিও। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে সম্প্রতি আরও তিন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক সেনা।

যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ের গ্রাফও উর্ধ্বমুখী:

প্রথম সপ্তাহ: আনুমানিক ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

১২ মে: বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে।

বর্তমান পরিস্থিতি: বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে।

কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন
এই বিশাল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থায়ন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

সিনেটর প্যাটি মারে: উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই সংঘাত আবারও একটি ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার দাবি করলেও, কেন ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সিনেটর জেন শাহিন: গত বছরের ১৫০ বিলিয়ন ডলার বাজেটের প্রায় অর্ধেক এখনও অব্যবহৃত থাকার পরও কেন নতুন অর্থায়ন চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ দাবি করেন যে, পূর্বের অর্থায়ন চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে।

বিক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা
তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই শুনানি চলাকালীন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বারবার স্লোগান দিয়ে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে, হেগসেথ এবং ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক দেখা দেয়।

রিপাবলিকানরা দ্রুত অর্থায়ন বিলটি পাস করানোর পক্ষে থাকলেও, ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। ফলে আসন্ন কংগ্রেসের অবকাশের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস হওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *