প্রায় ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান! অবশেষে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়া শুরু করল এসএসসি

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের (Upper Primary Teacher Recruitment) সুপারিশপত্র দেওয়া শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। মঙ্গলবার কমিশন তাদের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে এই সুপারিশপত্র বিতরণের কাজ শুরু করেছে। প্রথম দিনে বাংলা, হিন্দি ও নেপালি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলির জন্য ইংরেজির শিক্ষক পদপ্রার্থীদের হাতে এই সুপারিশপত্র তুলে দেওয়া হয়।

প্রথম দিনের সুপারিশপত্র বিতরণের চিত্র
এসএসসি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সুপারিশপত্র নেওয়ার জন্য মোট ৭৭ জন প্রার্থীকে ডাকা হয়েছিল।

এর মধ্যে ৫৮ জন প্রার্থী সফলভাবে সুপারিশপত্র গ্রহণ করেছেন।

একজন প্রার্থী উপস্থিত থাকলেও নানা কারণে সে দিন সুপারিশপত্র নেননি।

২০১৬ সালের নিয়মকানুন মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু নিয়োগকর্তা স্কুল নিজে, তাই এই উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীরা আর কিছুদিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলি থেকে তাদের মূল নিয়োগপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে টেট (TET) পাশ করার পর ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জট এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি আটকে ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আট দফা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলেও তা গতি পেতে কিছুটা সময় নেয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ১৪,০৫২ জনের নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১২,৭২৩ জনের নিয়োগ সম্ভব হয়। তবে ১২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ তখনও আটকে ছিল। পরবর্তীতে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে হাইকোর্টে জানানো হয় যে এখনও ১১৭৭টি শূন্যপদ ফাঁকা রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ২২ জুনের মধ্যে কাউন্সেলিং করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারি আইনজীবীর আবেদনে শুনানির দিন ৮ জুলাই ধার্য হয়। তবে তার আগেই এসএসসি দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের দিনক্ষণ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত উচ্চ প্রাথমিকের কাউন্সেলিং পর্ব চলছে। নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র সহ বিধাননগরের আচার্য সদনে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেই অবশেষে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র পৌঁছতে শুরু করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সফল প্রার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *