মহারাষ্ট্রে মুষলধারে বৃষ্টি! হু হু করে জল বাড়ছে কৃষ্ণা নদীতে, প্লাবিত একাধিক সাঁকো

মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা অবিরাম ভারী বর্ষণের ফলে কৃষ্ণা নদীতে জলের ইনপ্লো বা প্রবেশ মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে কর্ণাটকের একাধিক জলাধারের জলস্তর কিছুটা উন্নত হলেও, জুলাই মাস শেষ হতে চললেও কেআরএস (KRS) জলাধারের জলস্তর এখনও ১০০ ফুটের নিচেই রয়ে গেছে।

কৃষ্ণার অববাহিকায় নতুন জলের আগমন
উজান ও ক্যাচমেন্ট এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে কৃষ্ণানদীতে প্রায় ৮০,০০০ কিউসেক জল প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি বেদগঙ্গা ও দুধগঙ্গা নদীর জলপ্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নিপানি ও চিককোডি অঞ্চলের ৫টিরও বেশি সেতু জলের তলায় তলিয়ে গেছে। এমনকি এই মরসুমে দ্বিতীয়বারের মতো এদুর-কল্লোল সংযোগকারী সেতুটি সম্পূর্ণ জলের নিচে চলে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আলমাটি জলাধারের জলস্তর উন্নত
জলের ইনপ্লো বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজয়াপুর জেলার আলমাটি (লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সাগর) জলাধারটি সরাসরি উপকৃত হয়েছে। বর্তমানে এই জলাধারের জলস্তর ৫১৮.২৫ মিটারে পৌঁছেছে (যার সর্বোচ্চ সীমা ৫১৯.৬০ মিটার)। বর্তমানে জলাধারে ইনপ্লোর পরিমাণ ৬৩,৭৯২ কিউসেক এবং আউটফ্লো বা জল ছাড়ার পরিমাণ ২৫,০০০ কিউসেক। অন্যদিকে, নারায়াণপুরের বাসবসাগর জলাধারের জলস্তর ৪৯২.২৫ মিটার সর্বোচ্চ ক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৪৮৯.২৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এখানে ইনপ্লো হচ্ছে ১৪,৭১১ কিউসেক এবং নিচের দিকে ছাড়া হচ্ছে ৬,০০০ কিউসেক জল।

১০০ ফুটের নিচে কেআরএস (KRS)
চলমান বর্ষা সত্ত্বেও বেঙ্গালুরুর পানীয় জলের প্রধান উৎস মান্ডার কেআরএস জলাধারটি এখনও তার পূর্ণ ক্ষমতার তুলনায় বেশ নিচেই রয়েছে। জলাধারটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১২৪৮০ ফুট হলেও বর্তমানে জলস্তর মাত্র ৯২.২৪ ফুটে দাঁড়িয়ে আছে। ৪৯.৪৫২ টিএমসি (TMC) মোট ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৭.৩১৭ টিএমসি জল জমা রয়েছে। জলাধারে মাত্র ৮৫২ কিউসেক জল প্রবেশ করছে, বিপরীতে ছাড়া হচ্ছে ১,৮০১ কিউসেক। যা এই মরসুমে পর্যাপ্ত জলের জোগান না পাওয়ার কথাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে কাবিনী
মাইসুরুর কাবিনী জলাধারেও গত বছরের তুলনায় বেশ কম জল রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছর এই দিনে যেখানে জলস্তর ৮৩.৬৩ ফুট ছিল, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭২.৬৫ ফুটে। জলের সঞ্চয় ১৯.২৭ টিএমসি থেকে কমে বর্তমানে ১৩.০১ টিএমসিতে ঠেকেছে। গত বছর এই সময়ে যেখানে ১১,৭৪৬ কিউসেক ইনপ্লো ছিল, বর্তমানে তা কমে মাত্র ৩,১৩২ কিউসেক-এ দাঁড়িয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, কৃষ্ণ অববাহিকার জলাধারগুলিতে নতুন বৃষ্টির জায়ী কিছুটা স্বস্তি মিললেও, দক্ষিণ কর্ণাটকের প্রধান জলাধারগুলি পুরোপুরিভাবে আগামী সপ্তাহের ভারী বর্ষণের ওপরই নির্ভর করে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *