ফিটনেস ছাড়াই মাঠে নামানো হচ্ছে তারকাদের! ভারতীয় দলের অন্দরে বিসিআইসিআইয়ের কোন কালো রহস্য ফাঁস?

ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলোয়াড়দের চোটের সমস্যা দিন দিন এক ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি সামনে আসা বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (CoE) খেলোয়াড়দের ফিটনেসের বিষয়টি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে না, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে গোটা টিম ইন্ডিয়াকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে দলের একাধিক প্রথম সারির ক্রিকেটার চোটের কবলে পড়েছিলেন। স্বয়ং ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলও দলের এই ফিটনেস সংকটকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় রয়েছেন নীতীশ রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, হর্ষিত রানা এবং অভিজ্ঞ জসপ্রিত বুমরাহর মতো তারকারা।
ফিটনেসের চরম অভাব আর বোর্ডের উদাসীনতা
জাতীয় স্তরের একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেটারদের বারবার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির মূল কারণ হলো তাদের যথাযথ ফিটনেসের অভাব। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মাঠে নামার সময় অনেক খেলোয়াড়ই শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট ছিলেন না, তা সত্ত্বেও তাঁদের জোর করে বা ঝুঁকি নিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিসিসিআই-এর অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, জাতীয় দল এবং সেন্টার অফ এক্সিলেন্স-এর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মারাত্মক অভাব রয়েছে। এমনকি, নিতিন প্যাটেল পদত্যাগ করার পর থেকে সিওই (CoE)-তে কোনো স্থায়ী মেডিকেল স্টাফ প্রধান পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়নি, যা পুরো সিস্টেমের বেহাল দশাকেই তুলে ধরে।
হর্ষিত রানার চোট নিয়ে বিসিসিআই-এর তীব্র অসন্তোষ
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তরুণ পেসার হর্ষিত রানা এবং অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির ঘন ঘন চোটে দারুণ ক্ষুব্ধ বিসিসিআই। ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, হাঁটুতে গুরুতর চোট থাকা সত্ত্বেও হর্ষিত রানাকে কোন যুক্তিতে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হলো? জানা যাচ্ছে, টিম ম্যানেজমেন্টের অতিরিক্ত চাপের মুখেই তাঁকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার আগের সঠিক শারীরিক ওজন বা ম্যাচ ফিটনেস ফিরে না পাওয়া সত্ত্বেও হর্ষিতকে তড়িঘড়ি মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে বিস্ফোরক রহস্য উন্মোচন
ওই একই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন সুন্দরকে ঘিরেও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, সুন্দরকেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে যথেষ্ট তাড়াহুড়ো করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “দলে যোগ দেওয়ার পর ম্যাচ খেলার মতো উপযুক্ত ফিটনেস অর্জন করতে সুন্দরের অন্তত ১০ দিন সময় লেগেছিল। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট টুর্নামেন্ট চলাকালীনই নিজের শারীরিক প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর অহেতুক মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল।” খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও কেরিয়ার বিপন্ন করে এই ধরনের সিদ্ধান্তের জেরে বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।