“এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব!” ২১ জুলাইয়ের মেগা মঞ্চ থেকে কাদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক?

একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের মঞ্চকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্যের শাসক দলের অন্দরেই চরম রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে এল। একদিকে ২১ জুলাই পালন ঘিরে দলীয় কোন্দল, আসল-নকলের লড়াই এবং অন্যদিকে মদন মিত্র ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিদ্রোহীরা দলে ফিরে এলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এর পরেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের আক্রমণাত্মক মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের প্রসঙ্গ টেনে মদন মিত্রকে প্রকাশ্যে পালটা আক্রমণ শানাতেও দেখা যায়।

আইনি নোটিস ও ১০ কোটির দাবি
তৃণমূলের অন্দরের এই তরজা এখানেই থামেনি। জানা গিয়েছে, দলীয় মঞ্চের এই তীব্র মতপার্থক্যের মাঝেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন দলের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর মারফত পাঠানো ওই নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৯ জুলাই নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ‘অপরাধী’ ও ‘খুনি’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মদন মিত্র।

অভিষেকের আইনি টিমের দাবি, মদন মিত্রের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে বিদ্বেষমূলক। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মদন মিত্রকে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মানহানির অভিযোগে মোট ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়েও আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে কামারহাটির বিধায়ককে। একুশে জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির রেশ কাটতে না কাটতেই দলের দুই প্রভাবশালী নেতার এই দ্বন্দ্ব এখন বাংলার রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *