পোস্টাল অফিসার উর্মিলা সাইনি হত্যা মামলায় নতুন মোড়! অভিযুক্ত স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করতে এবার ডিএনএ টেস্ট

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সহকারী পোস্টাল অফিসার উর্মিলা সাইনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সংযোগিতাগঞ্জ থানার অন্তর্গত মনোরমগঞ্জ এলাকার এই বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত মামলায় এবার অভিযুক্ত স্বামী অখিলেশ সাইনির পরিচয় বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদা রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি আসলেই অখিলেশের কি না, তা ডিএনএ রিপোর্ট আসার পরেই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
অখিলেশের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অখিলেশ সাইনির মৃত্যু এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটির শরীরের একটি অংশ বা ধড় পাওয়া গেলেও, এখনও তার ঘাড় বা মুণ্ডু উদ্ধার করা যায়নি। এই কারণেই মৃতদেহ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ। এখন ওই মৃতদেহ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা পরিবারের সদস্যদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। রিপোর্ট হাতে আসার পরই এই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বামী অখিলেশই মূল অভিযুক্ত
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ইন্দোরের মনোরমগঞ্জ এলাকায় নিজের বাসভবনেই খুন হন সহকারী পোস্টাল অফিসার উর্মিলা সাইনি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁর স্বামী অখিলেশ সাইনির হাত রয়েছে বলে প্রমাণ মেলে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অখিলেশ এবং পুলিশ তার খোঁজ চালাচ্ছিল।
এরই মধ্যে বিদিশার গঞ্জবাসোদা রেললাইনে একটি ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয় যে ওই মৃতদেহটি পলাতক অখিলেশ সাইনির হতে পারে। তবে মেয়ের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বাবার দেহ পুরোপুরি শনাক্ত করার জন্য তার গলা বা মাথা দেখা জরুরি।
নিখোঁজ ঘাড়ের তল্লাশিতে পুলিশ
এই মামলার তদন্তের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো মৃতদেহটির অসম্পূর্ণ ও বিকৃত অবস্থা। উদ্ধার হওয়া ধড়ের সঙ্গে মাথা না থাকায় তদন্তকারীরা জটিলতায় পড়েছেন। পুলিশ দলগুলো ক্রমাগত নিখোঁজ ঘাড়টির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, মুণ্ডু উদ্ধার করা গেলে তদন্ত অনেক সহজ হবে। তবে আপাতত ডিএনএ পরীক্ষাই সত্য উদ্ঘাটনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মাঝে নিহত উর্মিলা সাইনির মেয়ে প্রেক্ষা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি ঘটনার সুবিচার দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন এবং নির্যাতিতার পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর পরিবারটি দ্রুত বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
পুলিশ বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক, অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যু এবং দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। ডিএনএ রিপোর্ট এবং নিখোঁজ মাথার সন্ধান মিললেই এই রোমহর্ষক মামলার জট পুরোপুরি খুলে যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।