সফদরজং থেকে সরাসরি মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ! সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের বড় রায়

বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁকে সরাসরি নামী বেসরকারি হাসপাতাল ‘মেদান্তা’-য় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এই সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে এখন থেকে মেদান্তা হাসপাতালেই তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলবে।
আদালতে কী নিয়ে আলোচনা হলো?
মঙ্গলবার শুনানির সময় আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েন এইমস-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আদালতে হাজির হয়ে এক চিকিৎসক গত রাতের রক্ত পরীক্ষার একটি রিপোর্ট পেশ করেন, যা ‘অনকোয়েস্ট ল্যাবরেটরিজ’-এর পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে দেখা যায়, রোগীর রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম রয়েছে।
আদালতের প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক জানান, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা ১০, চিকিৎসায় রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে তা কম হতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, লাদাখের মতো উচ্চতায় বসবাসকারী একজন পুরুষের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১১ থাকা অত্যন্ত কম এবং এটি উদ্বেগের বিষয়। ডা. ট্যান্ডন আদালতকে জানান যে, দীর্ঘদিন অনশন ও কোনো ক্যালোরি গ্রহণ না করার ফলে সোনমের প্লেটলেট সংখ্যাও কমে গেছে। তাঁর শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের বৃদ্ধি পেশীক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য সার্বক্ষণিক ও নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে আদালতকে জানান চিকিৎসকরা।
কপিল সিবাল ও তুষার মেহতার বক্তব্য
সোনম ওয়াংচুকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল জানান যে, মক্কেলের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁকে মুখে খাওয়ার তরল দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁকে পুলিশি নজরদারির মধ্যে রাখা এবং ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়ার মতো কিছু অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কথা জানিয়ে একটি চিঠিও লিখেছেন সোনম। সিবাল জানান, চিকিৎসকরা চাইলে তাঁকে তাঁর পছন্দমতো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, মেদান্তা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল এবং সোনম ওয়াংচুককে সেখানে স্থানান্তরিত করায় সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান ছাড়া তাঁকে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ বা বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
আদালতের চূড়ান্ত রায়
সব পক্ষের যুক্তি ও চিকিৎসকদের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতেই আদালত তাঁকে তাঁর পছন্দমতো ‘মেদান্তা হাসপাতালে’ স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয় এবং নির্দেশ দেয়।
আদালত আরও জানিয়েছে, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সোনমের সমস্ত মেডিকেল রেকর্ড এবং রিপোর্ট মেদান্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এখন থেকে মেদান্তা হাসপাতালেই তাঁর যাবতীয় চিকিৎসা সম্পন্ন হবে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশ দেয় আদালত।