রাম মন্দিরে বড় সিদ্ধান্ত! প্রসাদ ও অনুদান গণনা থেকে ছাঁটাই সমস্ত কর্মী, নেপথ্যে কোন কারণ?

অযোধ্যা: অযোধ্যার রাম মন্দিরে নৈবেদ্য ও পূজা-অর্চনা সংক্রান্ত চুরির ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর তদন্ত অব্যাহত থাকার মাঝেই মন্দিরের অনুদান ও প্রসাদ গণনার পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরণের রদবদল আনা হলো। মন্দিরের দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অনুদান গণনার দায়িত্বে থাকা সমস্ত কর্মীকে একসঙ্গে সরিয়ে দিয়ে সেখানে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
গণহারে কর্মী বরখাস্ত ও নতুন দল গঠন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৈবেদ্য চুরির ঘটনার পর মন্দিরের ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই আগের গণনাকারী দলটিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে জানা গিয়েছিল যে ২৩ জন কর্মী হঠাৎ পদত্যাগ করায় মাত্র ১৩ জন কর্মী বহাল ছিলেন। তবে নতুন খবর অনুযায়ী, ওই ১৩ জন কর্মীকেও সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে। নতুন গঠিত গণনাকারী দলে আগের কোনো পুরনো কর্মীকে রাখা হয়নি।
বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের কাছ থেকে তাদের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র এবং ইউনিফর্ম পর্যন্ত জমা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, মন্দির চত্বরের ভেতরে এখন আর অন্য কোনো কাজেও তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। এমনকি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত যেন তারা কাজে যোগ না দেন। উল্লেখ্য, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সুপারিশে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) এই কর্মীদের নিয়োগ করেছিল।
এসবিআই-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে গণনা
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ এবং সুরক্ষিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র এসবিআই-এর নিজস্ব কর্মীরাই এই গণনার দায়িত্বে থাকবেন। রাম মন্দিরে প্রসাদ ও অনুদান গণনার জন্য এসবিআই তাদের বিভিন্ন শাখা থেকে স্থায়ী কর্মীদের মোতায়েন করেছে।
এর আগে অনুদান গণনায় হাউসকিপিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে এসবিআই-এর ভূমিকা ও অবহেলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এই ঘটনার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এখন অনেক বেশি তৎপরতা ও কড়াকড়ি দেখাচ্ছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের বিস্ফোরক অভিযোগ
হঠাৎ করে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মন্দির ট্রাস্টের কাছ থেকে মাথাপিছু ২৬,০০০ টাকা করে নেওয়া হলেও তাদের হাতে দেওয়া হতো মাত্র ১৫,০০০ টাকা। কর্মীদের দাবি, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা বা দোষ না থাকা সত্ত্বেও আকস্মিক পদক্ষেপে তাদের রুটি-রুজির পথ বন্ধ করে দেওয়া হলো।