“আমাকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে মারধর…” সংসদ মার্চের হিংসায় পা ভাঙল দিল্লি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের, খোলসা করলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানী দিল্লিতে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ মার্চ ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে গুরুতর জখম হন দিল্লি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শ্রীনিবাস শর্মা। তার পায়ে মারাত্মক ফ্র্যাকচার হওয়ার পাশাপাশি হাতেও গুরুতর চোট লেগেছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ‘টিভি৯ ভারতবর্ষ’-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
ডিভিসিপি স্কোয়াডের দায়িত্বে ছিলেন শ্রীনিবাস
আহত সাব-ইন্সপেক্টর শ্রীনিবাস শর্মা জানান, তিনি ডিসিপি নতুন দিল্লি সচিন শর্মার স্কোয়াডে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার দিন সকাল ৬টা থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছিলেন তিনি। এরপর দুপুর ১টা নাগাদ সেন্ট্রাল ডিসিপির কাছ থেকে বার্তা আসে যে, চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার সমর্থক জয় সিং রোড ও সংসদ মার্গ রেড লাইটের কাছে অবস্থান করে রাস্তা আটকে রেখেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা ব্যর্থ
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং রাস্তা ফাঁকা করতে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীদের বহুবার শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কথা শোনেনি, উল্টে ব্যাপক হাঙ্গামা শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এই হাঙ্গামার মাঝেই ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েন শ্রীনিবাস শর্মা।
“আমাকে ঘসটে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়”
নিজের ওপর চলা নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করে। তার অভিযোগ, ওই ভিড়ে সাধারণ ছাত্রের চেয়ে সমাজবিরোধীদের সংখ্যাই বেশি ছিল। পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে বিক্ষোভকারীরা “পুলিশ ধরো আর মারো” স্লোগান দিতে শুরু করে এবং পুরোপুরি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।
কোড ওয়ার্ডে যোগাযোগ ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা!
তদন্তে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করে শ্রীনিবাস শর্মা জানান, ভিড়ের মধ্যে থাকা কিছু লোক নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট ‘কোড ওয়ার্ড’-এ কথা বলছিল। তাঁর সাফ অভিযোগ, এই পুরো হিংসাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে তার পাথরগুলো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমনকি বিক্ষোভকারীদের কাছে নানা রকম হাতিয়ারও মজুত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের ওপর লাঠিচার্জের বাধ্যবাধকতা
পুলিশ অফিসার স্পষ্ট জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রথম থেকেই চরম সংযম দেখিয়েছে এবং উস্কানিমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু প্যাটেল চকে যখন ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী চড়াও হয়, বাধ্য হয়েই পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়।
কেন হয়েছিল এই প্রতিবাদ?
উল্লেখ্য, রাজধানী দিল্লিতে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET পেপার লিক ঘটনার প্রতিবাদে কোকরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে এই বিশাল বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। গত প্রায় এক মাস ধরে যন্তরমন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর গতকাল তাদের সংসদ ভবন অভিমুখে মার্চ করার কর্মসূচি ছিল। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়, যার ফলে ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।