হাওড়া স্টেশনে নেই চেনা ভিড়, পতাকা বা মঞ্চ! একুশে জুলাইয়ের ঐতিহ্যে বড় বদল, ফাঁকা স্টেশন চত্বর

প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের দিনটিতে হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন ফেরিঘাট চত্বর যে চেনা ছন্দে মুখরিত থাকত, এ বছর তার বিন্দুমাত্র দেখা মিলল না। গত বহু বছর ধরে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে হাওড়া স্টেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা, ব্যানার, লাউডস্পিকার, অভ্যর্থনা মঞ্চ এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের বিশাল মিছিলের যে ভিড় দেখা যেত, এ বছর সেই ছবি সম্পূর্ণ উধাও। ২১ জুলাইয়ের দিনেও হাওড়া স্টেশন ও ফেরিঘাট চত্বর কার্যত ফাঁকা ও সুনসান পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বড় পরিবর্তন
বিগত বছরগুলোতে ২১ জুলাইয়ের আগের রাত থেকেই হাওড়া স্টেশনে দূরদূরান্তের ট্রেন থেকে নামা হাজার হাজার তৃণমূল নেতাকর্মীর ঢল নামত। জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের অভ্যর্থনা জানাতে এবং তাঁদের গাইড করার জন্য স্টেশন চত্বরে দলের পক্ষ থেকে একাধিক সাহায্য ক্যাম্প বা মঞ্চ করা হতো। কিন্তু এ বছর সেই চিরচেনা জাঁকজমক ও ব্যস্ততার ছবিটা পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। স্টেশনের অন্দরমহল থেকে বাইরের চত্বর—কোথাও নেই সেই দলীয় উন্মাদনা বা কোলাহল।

রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশে জুলাইয়ের আয়োজনে হাওড়া স্টেশনের এই দৃশ্যগত পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় স্তরে বা সমাবেশের রূপরেখায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিতই এর নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন শাসকশিবির ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এককালের অন্যতম প্রধান এন্ট্রি পয়েন্ট হাওড়া স্টেশনের এমন অচেনা ও ফাঁকা চিত্র রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *