সিজেপি-র ‘পার্লামেন্ট চলো’ মিছিলের রণক্ষেত্র! জরুরি শুনানিতে কী বলল দিল্লি হাইকোর্ট?

তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘পার্লামেন্ট চলো’ মিছিলকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে জাতীয় রাজধানী। ওইদিন সংসদ পদযাত্রার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানি করতে আজ অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এক আইনজীবী পুলিশের সহিংস পদক্ষেপের মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে আজকের জন্য বিষয়টিকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়নি। বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, “আদালতকে এর মধ্যে জড়াবেন না।” আগামী বুধবার (২২শে জুলাই) এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। ওইদিন জনস্বার্থ মামলাটিতে করা বিস্তারিত অভিযোগ এবং চাওয়া প্রতিকারগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সেখানে বিচারিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
৫টি এফআইআর দায়ের, চলছে ভিডিও বিশ্লেষণ
এদিকে, দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিজেপি-র মিছিল চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা, পাথর ছোড়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট সহ সংলগ্ন থানায় এই মামলাগুলো রুজু করা হয়েছে।
সহিংসতা ছড়ানোর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ২৫০টিরও বেশি ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন উত্তপ্ত হয়েছিল পরিস্থিতি?
গত সোমবার (২০ জুলাই) তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিমুখে মিছিল চলাকালে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও হট্টগোল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা চড়াও হন এবং বলপ্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার পাশাপাশি বহু পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীও গুরুতর আঘাত পান। বুধবারের হাইকোর্টের শুনানির দিকেই এখন সমস্ত মহলের নজর রয়েছে।