ই২০ পেট্রোলে কি আসলেই গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে? মুখ খুলল সরকার, মাইলেজ কমাসহ সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশে ই২০ (E20) পেট্রোল বা ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চলা নানা জল্পনা ও উদ্বেগের মধ্যে এবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিল সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভারতে একঝটকায় বা রাতারাতি ই২০ পেট্রোল চালু করা হয়নি; বরং দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ মাত্র ১.৫৩% ছিল, তা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরই ২০২৫-২৬ সালে বাড়িয়ে ২০% করা হয়েছে।
পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পরই নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ প্রতিবার বৃদ্ধির আগেই কঠোর ল্যাব টেস্ট, রোড় টেস্ট (রাস্তায় পরীক্ষা) এবং দীর্ঘমেয়াদী ড্রাইভিং পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল:
নীতি আয়োগ (NITI Aayog)
অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI)
সিয়াম (SIAM)
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম (IIP)
বিভিন্ন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং দেশের প্রধান যানবাহন নির্মাতারা।
এই পরীক্ষাগুলোতে ইঞ্জিনের শক্তি, ফুয়েল সিস্টেমের কর্মক্ষমতা, মরচে পড়ার প্রবণতা (Corrosion), মাইলেজ, দূষণ এবং সার্বিক ভেহিকেল পারফরম্যান্স অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
মাইলেজ ও গাড়ির ক্ষতি নিয়ে কী বলছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি?
গাড়ি কোম্পানিগুলির দেওয়া তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে সরকার জানিয়েছে, একটি শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১.৫ কোটি পুরনো গাড়িও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ই২০ পেট্রোলের কারণে গাড়ির কোনো স্থায়ী বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে, একটি প্রধান দু-চাকা প্রস্তুতকারক সংস্থাও জানিয়েছে যে, পুরনো মডেলগুলির তুলনায় ই২০ চালিত যানবাহনে অতিরিক্ত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়নি।
তবে সরকার খোলাখুলি স্বীকার করেছে যে, যে সমস্ত পুরনো গাড়ি মূলত ই১০ (১০% ইথানল) পেট্রোলের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, সেগুলিতে ৩% থেকে ৫% পর্যন্ত মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে ই২০ পেট্রোলের অকটেন রেটিং অনেক ভালো হওয়ায় এটি ইঞ্জিনের ‘নকিং’ কমায়, জ্বালানিকে আরও পরিচ্ছন্নভাবে দহন করতে সাহায্য করে এবং গাড়ি অনেক মসৃণভাবে চালাতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যতে কি ই৩০ বা এর বেশি মিশ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে?
জনসাধারণের মনে চলা জল্পনার জবাবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে ই২০-র বেশি অর্থাৎ ই৩০ (E30) বা তার অধিক ইথানল মিশ্রণের কোনো পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। ভবিষ্যতে যদি কখনো এর চেয়ে বেশি ইথানল মিশ্রণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়, তবে তার আগে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং সমস্ত অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাশাপাশি, বর্তমান বাজারে পেট্রোল পাম্পগুলিতে আলাদাভাবে ইথানল-মুক্ত বা স্বল্প-ইথানলযুক্ত পেট্রোল বিক্রির কোনো ভাবনাও সরকারের নেই। দেশের পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেই এই নীতি অব্যাহত রাখা হয়েছে।