সিনিয়র ইন্সপেক্টর অভিজিতের জন্মদিনে বিশেষ চমক! যে কারণে প্রথমে সিআইডি করতে চাননি আদিত্য শ্রীবাস্তব

টেলিভিশনের পর্দায় যাঁকে কোটি কোটি দর্শক এখনও জনপ্রিয় ক্রাইম শো ‘CID’-এর সিনিয়র ইন্সপেক্টর অভিজিৎ হিসেবেই চেনেন, সেই আদিত্য শ্রীবাস্তব (Aditya Srivastava)-র জীবনের গল্প শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে বলিউডের প্রশংসিত সিনেমা এবং ছোটপর্দার ইতিহাস গড়া ধারাবাহিক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে ফিরে দেখা যাক সেই মানুষটিকে, যিনি নিজের আসল নামের থেকেও বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছেন তাঁর অভিনীত একটি আইকনিক চরিত্রের সুবাদে।

এলাহাবাদ থেকে অভিনয়ের দুনিয়ায় পদার্পণ
উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ (বর্তমানে প্রয়াগরাজ)-এ জন্ম ও বেড়ে ওঠা আদিত্যর। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর টান তৈরি হয়। সেই টানেই তিনি মঞ্চে পা রাখেন এবং পরে দিল্লির বিখ্যাত ‘শ্রী রাম সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের অভিনয় দক্ষতাকে আরও শাণিত করেন। সেই সময়ই তিনি বুঝেছিলেন, অভিনয় তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হতে চলেছে।

অনেকেরই হয়তো অজানা, বড় পর্দায় তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য ব্রেক আসে শেখর কপূরের আলোচিত ছবি ‘Bandit Queen’-এ। এই ছবিতে ‘পুট্টিলাল’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ নজর কাড়েন, যা তাঁর জন্য মুম্বইয়ের দরজা খুলে দেয়।

২৬ পর্বের চুক্তি থেকে দীর্ঘস্থায়ী ‘অভিজিৎ’ হওয়া
যে চরিত্র তাঁকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে, সেই সিআইডির ‘অভিজিৎ’ হওয়ার পেছনের গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। প্রথম দিকে এই চরিত্রে অভিনয় করতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না আদিত্য। নির্মাতাদের সঙ্গে তিনি মাত্র ২৬টি পর্বের জন্য চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা ও উন্মাদনা এতটাই প্রবল ছিল যে, সেই অস্থায়ী চরিত্রই ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং জনপ্রিয় চরিত্রে পরিণত হয়। একসময় ‘CID’ আর অভিজিৎ যেন একে অপরের সমার্থক হয়ে ওঠে।

আরেকটি মজার তথ্য হলো, সিআইডি-তে প্রথমবার তিনি পুলিশের পোশাকে আসেননি! সিরিজের একটি প্রাথমিক পর্বে তাঁকে অপরাধীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। পরে নির্মাতারা তাঁকে অভিজিৎ চরিত্রে কাস্ট করেন, যা দর্শক দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করেন।

সিনেমার পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি
টেলিভিশনের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও তিনি নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন। ‘Satya’, ‘Black Friday’, ‘Gulaal’, ‘Lakshya’, ‘Super 30’, ‘Raat Akeli Hai’ এবং ‘Bheed’ এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় বারবার প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ ছিল অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ‘Paanch’, যা সেন্সর জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন মুক্তি পায়নি। তবে যাঁরা ছবিটি দেখেছেন, তাঁরা আজও আদিত্যর অভিনয়কে ভোলেননি।

জীবনের শুরুর দিকে সংসার চালাতে প্রচারচিত্র, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত ভয়েসওভার করতেন তিনি, যা তাঁর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। পর্দার জনপ্রিয়তার কারণে একবার এক মহিলা সত্যিই তাঁকে পুলিশ অফিসার ভেবে সাহায্য চাইতে এগিয়ে এসেছিলেন! পরে অবশ্য ভুল ভাঙে।

ব্যক্তিগত জীবন ও প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আদিত্য বরাবরই অত্যন্ত সংযত। তাঁর স্ত্রী মানসি শ্রীবাস্তব পেশায় একজন মনোবিদ এবং তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি বরাবরই পরিবারকে ক্যামেরার ঝলকানি ও প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন।

আজ দেশের কোণায় কোণায় মানুষ তাঁকে আসল নামে না চিনে ‘অভিজিৎ’ বলেই চেনেন। একজন শিল্পীর কাছে নিজের নামকে ছাপিয়ে একটি চরিত্রের অমর হয়ে ওঠার চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কী হতে পারে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *