‘শহিদের পরিবারকে দেওয়া টাকাও মেরে দিয়েছেন!’ একুশে জুলাইয়ের সকালেই মমতাকে চরম আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

একুশে জুলাইয়ের সকালেই রাজ্য রাজনীতিতে শব্দবোমা ফাটালেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর করা ক্ষতিপূরণ ও দুর্নীতির অভিযোগকে পুরোপুরি সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ‘চোর’ বলে আক্রমণ করলেন তিনি। অন্যদিকে, এদিন খণ্ডিত তৃণমূলের একাধিক সভা ও কলকাতার চেনা ভিড় উধাও থাকা নিয়েও কড়া কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন এই হেভিওয়েট নেতা।

শহিদদের টাকাও মেরে দেওয়া হয়েছে: দিলীপ ঘোষ
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলির সঙ্গে চরম ধোঁকাবাজি করা হয়েছে। অতীতে ন্যায়বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করা হয়নি বলে তাঁর দাবি।

দিলীপ ঘোষ আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “উনি বলেছিলেন শহিদ পরিবারকে ন্যায় দেবেন, কিন্তু দেননি। কাউকে সামান্য ভাতা বা চাকরির লোভ দেখিয়েছেন। আদালত ২৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করলেও, পরিবারগুলির হাতে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ টাকা। বাকি ২৩ লক্ষ টাকাও মেরে দেওয়া হয়েছে! শহিদদের যে টাকা, তা নিয়েও চুরি করা হয়েছে। চোরদের এই সরকারকে মানুষ ইতিমধ্যেই বিদায় করেছে, এখন শুধু টিমটিম করে বাতি জ্বলছে, দেখা যাক কতদূর কী হয়।”

খণ্ডিত তৃণমূল ও কলকাতার চেনা ছবি উধাও
একুশে জুলাইয়ের দিনটিতে অতীতে তিলোত্তমার যে রূপ দেখা যেত, এ বছর তার ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভাজনের জেরে এ দিন একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে শহিদ দিবস পালন। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ, মেয়ো রোডে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর সভা এবং শহিদ মিনার চত্বরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ২১ জুলাই পালনের ছবি সামনে এসেছে।

তবে তিন শিবিরের আলাদা এই সভা সত্ত্বেও কলকাতার রাজপথে নেই সেই চেনা উন্মাদনা। হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন, মেট্রো, বাস কিংবা ট্রামের মতো গণপরিবহনে অতিরিক্ত কোনও যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমনকি হাওড়ার ফেরিঘাট বা কলকাতার প্রধান রাস্তাগুলিতেও একুশে জুলাইয়ের সেই চিরাচরিত ভিড় কার্যত উধাও। ২১ জুলাইয়ের নির্দিষ্ট কয়েকটি সভাস্থল ছাড়া শহরের বাকি অংশে তৃণমূলের পতাকা বা সমর্থকদের চেনা কোলাহল দেখা না যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *